চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবহেলা-বঞ্চনার জবাব শামসুরের ব্যাটে

চট্টগ্রাম থেকে: দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আফসোসের এক নাম শামসুর রহমান শুভ। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে আলো ছড়িয়ে পেয়েছিলেন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ। যদিও দেড় বছরের বেশি খেলতে পারেননি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ২০১৪ সালের নভেম্বরের পর আর আসতে পারেননি বাংলাদেশ দলের আঙিনায়। নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের জার্সিতে নিজেকে মেলে ধরেছেন নবরূপে। অবহেলা-বঞ্চনার জবাব দিচ্ছেন ব্যাট হাতেই।

মিরপুরে প্রথম পর্বের চার ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি শামসুর। তবে সিলেট পর্ব থেকে নিয়মিত খেলছেন ৩০ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। ৬ ম্যাচের মধ্যে তিন, চার ও সাত নম্বরে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। করেছেন ১৬২ রান।

বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করলেও দেখিয়েছেন রান তোলায় ধারাবাহিকতা। ফিফটি নেই, তবে ছোট ছোট কার্যকরী ইনিংস খেলে রেখেছেন অবদান। দুটি ম্যাচে ছিলেন অপরাজিত। যে কারণে গড় ৪০.৫০। স্ট্রাইকরেট চোখে লাগার মতই, ১৩২.৭৮।

শামসুরের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। আক্ষেপ করলেন অল্পদিন খেলেই জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ায়, ‘শামসুরকে নিয়ে বলার কিছু নেই। ভালো খেলোয়াড়। জাতীয় দলেও খেলেছে। দুর্ভাগ্য জাতীয় দলের বাইরে চলে গেছে। রান করতে, নিজেকে ফিট রাখতে অনেক পরিশ্রম করেছে। সম্ভবত দ্বিতীয় বিপিএলে সে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান (৪২১) করেছে। এ বছর ভালো সময় যাচ্ছে তার। নিজের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।’

শামসুরকে দলে পেয়ে খুশি কুমিল্লার অধিনায়ক। অথচ গত আসরে কী বাজে অভিজ্ঞতাই না হয়েছিল শামসুরের! পড়তে হয়েছিল লজ্জাজনক এক পরিস্থিতিতে। প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাকে কেউ না নিলেও পরে রংপুর রাইডার্স যোগ করে নেয় স্কোয়াডে। ম্যাচ খেলানো দূরে থাক; আসরের মাঝপথে চট্টগ্রামের মাঠে খেলতে রাইডার্সরা চলে যায় শামসুরকে ঢাকায় রেখেই। তাকে জানানো হয় দলের পরিধি ছোট করায় সে এখন স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার। সেই ঘটনায় মনের কষ্ট চাপা রাখতে পারেননি শামসুর। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিকদের কাছে।

পরের বছর জাতীয় লিগের দল ঢাকা মেট্রোর কোচের কথায় অপমানিত বোধ করে দল থেকেই সরে যান শামসুর। পারফরম্যান্স, ফিটনেস নিয়ে তোলা হয় নানা প্রশ্ন! তবে বিপিএল শুরুর আগে গত বছরের নভেম্বরে বিসিএলে সাউথ জোনের এ ওপেনার সবশেষ চার ম্যাচে করেন দুটি সেঞ্চুরি। ৬ ইনিংসের ব্যবধানে দুটিতে করেন ১৫৩ ও ১২১।

বিজ্ঞাপন

৩০ পেরিয়ে আসা শামসুর এক মৌসুম পর বিপিএলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে চার নম্বরে নেমে খেলেন ৩৭ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। সিলেট সির্ক্সার্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে কুমিল্লার লক্ষ্য ছিল মাত্র ৬৯ রান। পরের ম্যাচে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ১ রান করে হন রানআউট। মিরপুরে দ্বিতীয় পর্বে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে তিনে নেমে এক ছক্কায় করেন ১১ বলে করেন ১৫।

মিরপুরে ফিরে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে চারে নেমে করেন ৩৫ বলে ৪৮ রান। শুরুতেই দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ায় চাপ ছিল। সেখান থেকে কুমিল্লার ইনিংস মেরামত করেন শামসুর। ইনিংস সাজান ৩ চার ও ১ ছক্কায়।

চট্টগ্রামে এসে আগের ম্যাচে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে সাতে নেমে করেন ১৫ বলে ২৮ রান, থাকেন অপরাজিত। মঙ্গলবার তিনে ফিরে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে করেন ২২ বলে ৩৬। ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ২ ছয়ের মার। কুমিল্লার লক্ষ্য ছিল ছোট, ১১৭ রানের।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পেরিয়ে আসার পরপরই শামসুর দেখেন বাজে সময়। জাতীয় দলে ডাক পেয়েও কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি, বয়স যখন মাত্র ২০। ২০০৯ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও তাকে প্র্যাকটিস ম্যাচেও খেলানো হয়নি। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। কোনো ম্যাচে না খেলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। না খেলেই কেনো বাদ পড়েছিলেন আজও সেটি প্রশ্ন হয়েই আছে!

২০১৩ সালে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে নজরকাড়া ব্যাটিং করে আলোয় আসেন শামসুর। হন তৃতীয় সর্বোচ্চে রান সংগ্রাহক। সেবার ১২ ম্যাচের ৬টিতে পান ফিফটি। সেই পারফরম্যান্সের আবার খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা। পরে বাংলাদেশের হয়ে ৬ টেস্ট, ১০ ওয়ানডে ও ৯ টি-টুয়েন্টি খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে আছে সেখানেই।

বিজ্ঞাপন