এরশাদের পতনঃ ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বাইরে

এরশাদের বোঝা আর টানতে রাজি না হয়ে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করলেও সেনাবাহিনী তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়নি। এমনকি এরশাদের মতো সেনাবাহিনীও দূরতম কল্পনাতেও ভাবতে পারেনি যে পদত্যাগের পর সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদকে গ্রেফতারের মতো তিক্ত এবং বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার আগে অবশ্য শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করেছিল সেনাবাহিনী। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দূতিয়ালির ভূমিকা পালন করেন সেসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মনজুর রশীদ খান।এরশাদকে সরে যেতে বাধ্য করার পেছনে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে যে সেনা কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাদের একজন তখনকার ডিরেক্টর (মিলিটারি অপারেশন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতিক। পরে ১৯৯৬ সালে যশোরের জিও

By শর্মিলা সিনড্রেলা on সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬ ২০:০৭

সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন খান দেশে ফেরার পর সেনাবাহিনীর সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। সেনা সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এইচ এম এরশাদের আদেশ অনুযায়ী মাঠে থাকলেও তার আদেশ পুরোপুরি অমান্য করতে পারছিলেন না। তবে প্রায় নিষ্ক্রিয় থেকে তারা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তারা নিজেদেরকে রাজনীতির অংশ করতে চান না, এক সাবেক জেনারেলের ক্ষমতার জন্য জনগণের রক্ত ঝরাতে রাজি নন। তারপরও তাদের পক্ষে সরাসরি সর্বাধিনায়কের আদেশ অমান্য করার সুযোগ ছিল না। এক্ষেত্রে যিনি ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি সেনাপ্রধান, কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগেই তিনি ঢাকা ছেড়েছিলেন। সৌদি আরবের উদ্দেশে সেনাপ্রধানের

By শর্মিলা সিনড্রেলা on রবিবার , ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ ২০:০৩

জেনারেল এরশাদের শেষ দিনগুলোতে তার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার এবং জনগণের বিপক্ষে না দাঁড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য অনুঘটক হয়েছিল একযোগে সকল সংবাদপত্রে ধর্মঘট এবং বেসামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি এরশাদের উপর অনাস্থা। এর আগের এক সপ্তাহ সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলেও এবং গুলির নির্দেশ থাকলেও সেনা সদস্যরা জরুরি অবস্থা এবং সান্ধ্যআইন অমান্যকারীদের দমনে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদকে তাদের বার্তা দিয়ে দেন।সেসময়ের সেনা কর্মকর্তারা জানান, ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারির আগেই ওইদিন সকালে পূর্বনির্ধারিত সৌদি আরব সফরের জন্য ঢাকা ছেড়েছিলেন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন খান। তার সঙ্গে ছিলেন ডিরেক্টর (মিলিটারি অপারেশন্স) ব্রিগেডিয়ার জ

By শর্মিলা সিনড্রেলা on শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ১৯:২৭

জরুরি অবস্থা-কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মিছিল। পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে মেশিনগান ফিট করা সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি। রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন পুলিশ-বিডিআরও নিষ্ক্রিয়। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হওয়ার পর রাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এরশাদ। পরদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর মিছিল বের হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এক ধরনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে যা থেকে স্পষ্ট হয় নাটাই এরশাদের হাতে থাকলেও পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নেই।সাতাশ নভেম্বর জরুরি অবস্থা জারির পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাতেই শুরু হয় মিছিল। বঙ্গবন্ধু হল থেকে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান চুন্নু এবং আহকামউল্লাহর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হ

By শর্মিলা সিনড্রেলা on শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৬ ১৮:৪৭

উনিশশ ৯০ সালের অক্টোবর মাসের প্রথমদিকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মধ্য নভেম্বরের পর রাজপথের মতো ক্যান্টনমেন্টেও বেজে যায় প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদের বিদায়ঘণ্টা। এক অনিবার্য গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। রক্তপাত এড়াতে সেনাবাহিনী এরশাদের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তার সামনে পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। তার আগে পুলিশ বাহিনীও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বুঝিয়ে দেন তারা জনগণের পক্ষে আছেন।বিরাশি সালে এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পর থেকে তার বিরুদ্ধে বারবারই আন্দোলন হয়েছে। কখনো গুলি, কখনো মিছিলে ট্রাক, কখনো নিজের পেটোয়াবাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেন এরশাদ। এতে দীর্ঘ হতে থাকে নিহতের তালিকা। তবে এর মধ্যেই চলে যায় স

By শর্মিলা সিনড্রেলা on বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৬ ১৮:০০