আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বুধবার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারের যথার্থ প্রতিধ্বনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার মাহবুব উল আলম হানিফ এক সভায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যতোদিন জীবিত আছেন, ততোদিন পযন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকবে, শেখ হাসিনা ততোদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।’
এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, হানিফ সাহেবের এই বক্তব্য গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে বাকশাল পুরোদমে চালু রাখার ইঙ্গিতবাহী। তারা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তার বক্তব্য সেটিরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বেআইনী কারাবাসে আটকে রেখে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তার অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর করার এক ভয়ংকর মাস্টারপ্ল্যানের যে অংশ, তা হানিফ সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। হানিফের বক্তব্যে প্রমাণ হলো আপনারা সদলবলে ভারতে গিয়েছিলেন ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেনদরবার করতে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার জেনে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০/২২ টির বেশি আসন পাবে না। তাই একতরফা নির্বাচনের পক্ষে নাক গলাতে তারা দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে। দেশকে গণতন্ত্রহীন করে আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হানিফ সাহেবের বক্তব্যে জাতির সামনে ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসলো, গণতন্ত্র বিধ্বংসী আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার বহি:প্রকাশ ঘটলো। কিন্তু জনগণ এবার আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।
রিজভী এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমেরও সমালোচনা করে বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে। সমালোচনার মুখে তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সকল ডকুমেন্টস সরিয়ে নিয়ে এখন বলছেন তার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে। মূলত প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে তিনি সবার কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। এসব মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করা যাবে না। তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তিনি বাংলাদেশেরই নাগরিক আছেন এবং থাকবেন।








