রাজধানীর গুলশান-১-এর ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ ৩০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে বানী চিত্র ও চলচ্চিত্র লিমিটেডের একজন ডিরেক্টর জিয়া ইয়ামিনের করা আবেদন সোমবার খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাচ বিচারপতির আপিল বিভাগ।
আজকের আদেশের ফলে ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ ভেঙে ফেলতেই হবে বলে জানান বাণী চিত্র ও চলচ্চিত্র লিমিটেডের আইনজীবী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী। যিনি শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেডেরও আইনজীবী।
আদালতে বানী চিত্র ও চলচ্চিত্র লিমিটেডের একজন ডিরেক্টর জিয়া ইয়ামিনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান। শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। রাজউকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। বাণী চিত্র ও চলচ্চিত্র লিমিটেডের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী ও খন্দকার নাজমুল আহসান।

গত বছরের জুলাইয়ে গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট রিট করেন বাণী চিত্র ও চলচ্চিত্র নামে দুটি কোম্পানি। সে রিটের শুনানির পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে রুল শুনানি শেষে গত ১৩ ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গুলশান শপিং সেন্টার ৩০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), রাজউকসহ সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

গুলশান শপিং সেন্টারের জরাজীর্ণ ভবন ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার কারণে ২০২১ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর মার্কেটটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ডিএনসিসিকে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার চিঠি দেয়। একপর্যায়ে গত বছরের ২৩ জুলাই গুলশান শপিং সেন্টার সিলগালা করে দেয় ডিএনসিসি।
এদিকে গুলশান শপিং সেন্টার সিলগালা করার প্রতিবাদে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা গোলচত্বর অবরোধ করে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। সেই সময় দোকানদাররা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে। গুলশান শপিং সেন্টার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী এই মার্কেটে রয়েছে ৭ শতাধিক দোকান। এগুলির ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার।









