হবিগঞ্জ শহরে প্রকাশ্যে এক স্কুলছাত্রীকে নির্মমভাবে মারধরার করার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হলে শুক্রবার রুহুল আমিন (১৫) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে জেলার সদর উপজেলার রীচি গ্রাম থেকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রুহুল আমিনকে আটক করে পুলিশ। হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নাজিম উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর ১টায় সদর মডেল থানায় শহরতলী রিচি থেকে গ্রামের মেম্বারসহ মুরুব্বীরা তাকে নিয়ে সদর মডেল থানায় আসেন। এসময় তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শহরের রাজনগর এলাকা থেকে রুহুল আমিনের মামী মার্জিয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।লাঞ্ছিত হওয়া ওই স্কুলছাত্রী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট বিকেলে কোচিং শেষে বাসায় ফেরার সময় রাজনগর এতিমখানা রোডসস্থ একই এলাকার ছেলে রহুল আমিন নামে এক যুবক এই ঘটনা ঘটায়।
নির্যাতিত ছাত্রীর মা বলেন, মেয়ে স্কুলে যাইতে পারেনা, লেখাপড়া করতে পারেনা, একটি ছেলে ডিস্ট্রাব করে। এমন বলে রুহুল আমিনের অভিভাবকদের কাছে বিচার দেওয়া হয়েছে। তারা শাসন করলে সে অন্য মেয়েদের পিছে লাগে।এরপর অন্য ছেলেদের হাতে মার খায় কিন্ত দোষ দেয় আমার মেয়ের। এ ঘটনার জের ধরেই আমার মেয়েকে মারে। তিনি আরো বলেন, “আমি সমাজের সবার কাছে এর বিচার চাই। আমার মেয়েকে লাঞ্চনাকারীর শাস্তি চাই।”
আটক রুহুল আমিন জানায়, “স্কুলের সামনে অনেক ছেলে মেয়ের সামনে অপমান করলে নিজের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয় তখন আমি বাধ্য হয়ে মারি। তবে আমার ভিডিও করার কোন ইচ্ছা ছিল না। আমি নিজের কারণে দোষী হয়েছি। ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারন করে তারই এক বন্ধু।সকালে হবিগঞ্জে মানববন্ধন করেছে নাগরিক সমাজ।
সকাল সাড়ে ১০টায় এম সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কবি তাহমিনা বেগম গিনি, হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীম আক্তার চৌধুরী, সুজন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী, কমরেড পীযুষ চক্রবর্তী, ডাঃ এস এস আল আমিন সুমন, তোফাজ্জল সোহেল প্রমূখ।






