রাজধানীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থেকে সরকারকে অবিলম্বে জলজট ও যানজট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। আর জলজট নিরসনে দখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার এবং সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ সিস্টেম কার্যকর করতে সব সেবা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে বলেছেন দুই মেয়র।
এক কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস রাজধানী ঢাকায়। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে ৪০ হাজার মানুষ। নগরীর বেহাল দশার সর্বশেষ রূপ দেখা গেছে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ। সামান্য বৃষ্টিতেই জলজট আর যানজটে নাকাল ছিলো নগরবাসী।
জলজট যানজটে বিপন্ন ঢাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথম আলোর গোলটেবিলে দুই মেয়রের উপস্থিতিতে রাজধানীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠে আসে বেশকিছু পরামর্শ।
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১ সেপ্টেম্বরের চেয়ে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।
ক্যাপিটাল রিজিওনের জন্য একটা ব্যবস্থা থাকতে হবে মন্তব্য করে সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ এর সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনেজ-যানজট-বাঁধ বিষয়ক দশ-বারোটা বা পনেরোটা ছোট ছোট এডভাইজারি কমিটি করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট এর সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, প্রথমবার স্বীকার হলাম বলে ‘স্টেনটিং’ করতে বলছি, দ্বিতীয় হলে বাইপাস করার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা শহরকে বসবাসের অযোগ্য বলা হলেও উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক কোনো আলোচনা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করার জন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা নেই। ঢাকা শহরে এমন একটা নেতা খুঁজে পাওয়া যায় না যে বলবে যে ঢাকা শহরে কিভাবে জলাশয় রক্ষা করতে হয়, ড্রেনেজ করতে হয়।
ওয়াসার সমালোচনা করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ৪৪ বছর পরে ওয়াসা এসে বলবে মাত্র ২২ শতাংশ কাভারেজ দিতে পারি। তাহলে এটা ধরে রাখার তোমার যোগ্যতা কি আছে?
হাতিরঝিল প্রকল্প পরামর্শক অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, আমার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে যদি সচল রাখতে হয় তাহলে আমার ডাউনস্ট্রিমে যেমন জলাশয়গুলো মুক্ত রাখতে হবে, একইভাবে শহরের ভেতরে যেসব রাস্তায় আমার ড্রেনেজ লাইনগুলো করা হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির পানিটা ঢোকার জন্য ক্যাচ বেসিনগুলো ফাংশনাল থাকতে হবে।
বলা হয়, রাজধানী দেখভালের দায়িত্ব ১১ থেকে ১৪টি সংস্থার ওপর ন্যস্ত থাকলেও সমন্বয় সেই। ঢাকার দুই মেয়রও স্বীকার করলেন সমন্বয়হীনতার কথা।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, খাল উদ্ধার করতেই হবে। সরকারকে তার প্রশাসন, ডিসি অফিস, রাজউক এর কাজে সমন্বয় আনতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহরের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনতিবিলম্বে একটা সহযোগিতা দরকার। একটা সমন্বিত কর্তৃপক্ষের মাধমে আমাদের কাজটা শুরু করতে হবে।
রাজধানীকে তিলোত্তমা রূপ দিতে ঢাকার ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে ২০১৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা স্ট্রাকচারাল প্ল্যান এর খসড়া করেছে রাজউক। গোলটেবিল আলোচনায় জানানো হয়, খসড়াটি খুব শিগগিরই পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নেওয়া হবে।






