বাংলাদেশের শতভাগ এলাকায় হামের টিকা দেয়া হলেও সীতাকুণ্ডের বারো আউলিয়ার ত্রিপুরাপাড়ায় কোন হামের টিকা দেয়া হয়নি।এর ফলে গত সপ্তাহে সেখানে কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু হয় ৯ শিশুর।হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অনেক শিশুকে।
রোগের লক্ষণ ও নমুনা ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে আইইডিসিআর বলছে, ওই শিশুদের হামের টিকা নেয়া ছিলো না।স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত টিকা কার্যক্রমে শক্তিশালী ওয়ার্ডভিক্তিক মাইক্রোপ্ল্যানেও সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ‘ত্রিপুরা পাড়া’ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিস্মিত স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।ঘটনা তদন্তে একাধিক কমিটি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় ৮ জুলাই প্রথম শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।এরপর ৯ জুলাই দুই শিশু ১১ জুলাই এক শিশু এবং ঘটনার চতুর্থ দিনে ১২ জুলাই একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যুর ওই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
চার দিনে ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি সরকারের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এর পক্ষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রোগ লক্ষণ বিশ্লেষণ ছাড়াও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলসহ ওই ঘটনার কারণ তুলে ধরে আইইডিসিআর।
সংবাদ সম্মেলনে দেশে শক্তিশালী সম্প্রসারিত টিকাদান কার্যক্রম থাকার পরও একই সঙ্গে কেন এত শিশুর মৃত্যু হলো তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইম্যুনাইজেশন অ্যান্ড ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচির প্রতিনিধি জানান, দেশে হামের টিকা গ্রহণের হার ৮৭ শতাংশ।
সীতাকুণ্ডে ৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীপাড়া ছাড়াও চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরী মেডিকেল ক্যাস্প করে টিকা দেয়া হচ্ছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিীকী।
তবে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর ত্রিপুরা পাড়ায় এত শিশু মৃত্যুর এ ঘটনা মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যর্থতার নজির হয়ে থাকবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








