স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়াসহ অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশগুলোর চেয়েও বেশি উন্নয়ন করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানাতে জাতিসংঘ মহাসচিব বিশেষ ভিডিও বার্তা তৈরি করেন। সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি জিডিপিতে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের অর্থনীতির ভালো স্বাস্থ্যেরই ঈঙ্গিত দেয়। তবে ব্যাংকিং খাতে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। এর মধ্যে একের পর এক কেলেঙ্কারি, জালিয়াতি, বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকে মালিকানা পরিবর্তন, দুয়েক জায়গায় অচলাবস্থাসহ আরও বিষয় রয়েছে, যা কপালে ভাঁজ ফেলার মতো খবর। এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের যে কোনো পদক্ষেপ নেই তা নয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অনেকে মনে করেন। সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- এই খাতে কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম ঠেকাতে বাজেটের আগেই কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত। এটা অবশ্যই ভালো খবর। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই পদক্ষেপের মধ্যে সরকারি অর্থের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়: ‘এই আমানত আয়ত্তে নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কে কত পরিমাণ নিতে পারবে, কীভাবে নেবে এ নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। কোনো কোনো ব্যাংক বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপঢৌকন, বিভিন্ন উপহার ও কমিশন দেয়ার প্রস্তাব নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমানত সংগ্রহের চেষ্টাও করছে অনেকে।’ এই অশুভ প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক ইমেজের ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হলে সেই অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা। আমরা মনে করি, এ বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আরও গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। ব্যাংগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ যাতে লুটপাটকারীদের মহোৎসবে পরিণত না হয়। এটা নিশ্চিত করতে হলে সঠিকভাবে সঠিক প্রতিষ্ঠানকে যাচাই করে অর্থ দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের নিরাপত্তার জন্য সরকারকেই এটা নিশ্চিত করতে হবে।







