বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে দিতে পারেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সংসদ সদস্য হওয়ায় নড়াইলবাসীর সেবায় ব্যস্তসময় কাটাতে হয় তাকে। পাশাপাশি খেলা চালিয়ে গেলেও সেটি আর কতদিন? চার বছর ঘুরে আসা আরেকটি বিশ্বকাপে খেলার কথা চিন্তা করা ৩৫ বছর বয়সী একজন পেসারের জন্য অসম্ভবই বটে! বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে শেষ সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফী পরিষ্কার করলেন সেটাও। জানিয়ে দিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ।
সম্ভবত এটিই আপনার শেষ বিশ্বকাপ। সে কারণে বিশেষভাবে নিজেকে তৈরি করছেন কিনা? প্রশ্নকর্তার ধারণাকে শতভাগ নিশ্চিত করে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক দিলেন সায়।
‘সম্ভবত নয়, নিশ্চিত এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ঘিরে আলাদা করে তৈরি করার আসলে কিছু নেই। আলাদা করতে গেলে চাপ থাকবে। আলাদা কিছু করেও মনে হয় না কিছু করতে পারব ইংল্যান্ডে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আগে পারফর্ম করার চেষ্টা করতে হবে। নিঃসন্দেহে অধিনায়কত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমার যে দায়িত্ব আছে, চেষ্টা করবো সেটা পুরোপুরি ঠিক করে রাখার।’
শেষ বিশ্বকাপ হলেও ইংল্যান্ডের মাটিতেই ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আসবেন কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি মাশরাফী। বললেন, খুব ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেন না তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কোথায় কবে থামাবেন সিদ্ধান্ত নেননি সেটি নিয়েও।
মাশরাফী, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব। দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। এনে দিচ্ছেন অসাধারণ সব সাফল্য। টাইগার ক্রিকেটের জমিনে যে শক্ত মাটি তাদের অবদান তাতে অগ্রণী। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দলেও আছেন সকলে। একসঙ্গে এটিই পঞ্চপাণ্ডবের শেষ বিশ্বকাপ। অন্যরা লক্ষ্য বিস্তার করলেও পরের বিশ্বকাপে থাকবে না মাশরাফী নামটি। ইংল্যান্ডের মাটিতেই শেষ বিশ্বকাপ, অথচ সেটি ঘিরেও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই মাশরাফীর।
‘আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। অবশ্যই ভালো হলে নিজের কাছে না, সবাই খুশি হলে আমারও ভালো লাগবে। বাড়তি প্রত্যাশা পূরণের চাপ কখনোই নিতে চাই না। শেষ বিশ্বকাপ খেলছি, ভালো কিছু করে আসা, এটাই। আমার ভাগ্যে যা আছে, পুরো দলের ভাগ্যে যা আছে, সেটা হবে। কিন্তু মেহনত করতে হবে, কষ্ট করতে হবে পুরো দলের। সেটা করার জন্য প্রস্তুত কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
‘আমাদের ওপর এমন কোনো চাপ নেই যে, বিশ্বকাপ জিতে আসতে হবে বা সেমিফাইনালে উঠতে হবে। এটা করার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। কিন্তু পুরো বিশ্বের সাবেক যত বড় বড় ক্রিকেটার আছে, যারা বিশ্লেষণ করে তাদের যদি প্রশ্ন করেন, আমরা কিন্তু কখনোই ফেভারিট না। যদি তেমন কিছু করতে পারি তাহলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হবে। যেটা আগের থেকে এখন হয়েছে। সেরকম কিছু যদি করতে পারি সবাই অন্য চোখে দেখবে। সে জায়গা থেকে অনেক বড় সুযোগ। সেদিক থেকে চাইবো যে আমরা ভালো করব।’
এবার বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফীর জন্য চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবে এটি তার পঞ্চম বিশ্বকাপও হতে পারতো। ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপে বিতর্কিতভাবে বাদ দেয়া হয়েছিল তাকে। তারপরও এবারের আসরে অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নড়াইল এক্সপ্রেস। ইংল্যান্ডে মাত্র দুজন খেলবেন, যাদের ২০০৩ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা সঙ্গী হবে, মাশরাফী ছাড়া অন্যজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল।
মাশরাফীর নেতৃত্বে গত চার বছর ওয়ানডেতে ৫১ শতাংশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারে ৭৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিয়েছেন ৪০টিতে। হার ৩১ ম্যাচে। গত বিশ্বকাপে মাশরাফীর নেতৃত্বেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছ বাংলাদেশ। যেটা নিজেদের ইতিহাসে সেরা সাফল্য।







