মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে রায় হচ্ছে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আপিলে। শুনানি শেষ হওয়ার মাত্র ২০ দিনের মাথায় রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার জন্য আপিল বিভাগ ৫৫ দিন সময় নিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী দলটির আরেক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের আপিলে রায় ঘোষণায় সময় লেগেছিলো ৪৬ দিন।
তবে ওই দু’ আপিলের একটিতেও শুনানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রায়ের তারিখ জানানো হয়নি। আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর আপিল বিভাগ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। রায়ের আগেরদিন কার্যতালিকার মাধ্যমে রায়ের তারিখ জানতে পারেন সবাই।
কিন্তু মুজাহিদের আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পরপরই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের বেঞ্চে রায়ের তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন।
আগামী ১৬ জুন হচ্ছে সেই দিন।
এর আগে আপিল বিভাগে শুনানি শেষে রায়, পূর্ণাঙ্গ রায় এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ২০৬ দিনের মাথায় কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ১১০ দিনের মাথায়।
মোল্লার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ৫৫ দিনের মাথায় ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ।
রায়ের ৪৮ দিনের মাথায় ৫ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৭ দিনের মাথায় কার্য্কর হয় ফাঁসি। অর্থাৎ আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ১১০ দিনের (৫৫+৪৮+৭) মাথায় কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে, কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির রায় হয় ২০১৩ সালের ৯ মে। আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ৪৬ দিনের মাথায় ৩ নভেম্বর, ২০১৪ মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের ১০৭ দিনের মাথায় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।
রিভিউ আবেদন খারিজ হলে পূর্ণাঙ্গ রায়ের ৫৩ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হওয়ার ২০৬ দিনের (৪৬+১০৭+৫৩) মাথায়।






