বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্বে এদেশের ছাত্রসমাজ শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও কল্যাণমুখী করার জন্য অনেক আন্দোলন করেছেন। অনেকে রক্ত দিলেও স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও শিক্ষা সমস্যার সমাধান হয়নি। এই সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার নৈরাজ্য চরমাকার ধারণ করেছে। শিক্ষার সকল উদ্দেশ্য আজ ভূলুণ্ঠিত।
শনিবার বিকালে ঢাকা লেডিস ক্লাবে বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এই প্রথম শিক্ষা বিষয়ক একটি জাতীয় সেমিনার আয়োজন করলো।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া বলেন, আমি নিজে শিক্ষাবিদ নই, কিন্তু বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে দেখেছি শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার। এমন পরিবর্তন দরকার যা দেশের মানুষের আশা আকাঙক্ষাকে প্রতিফলিত করবে, শিক্ষার সুফল সকল মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। শিক্ষা হবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উন্নত জাতি হিসেবে আমাদের পরিচিতি করার মাধ্যম। শিক্ষা মানুষকে গণতন্ত্রের প্রতি, ভিন্নমতের প্রতি, ভিন্ন মত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্য পদদলিত করছে। তারা শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। একথায় আজ শিক্ষার সকল উদ্দেশ্য ভূলুণ্ঠিত।
বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গিয়ে জনকল্যাণমুখী ও মানবসম্পদ তৈরির শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করবে বলে অঙ্গীকার করেন খালেদা জিয়া। বিএনপি ঘোষিত ভিশন-২০৩০ এ তা স্পষ্ট বলা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে জিডিপি’র ৫ শতাংশ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও শিক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি দিব।
শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল প্রথমবারের মতো জাতীয় সেমিনার আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।








