সিলেটে শিশু রাজন হত্যায় অভিযুক্ত কামরুল সৌদি আরবে পালিয়ে গেছে। ঘটনার ভিডিওচিত্র দেখে সৌদি প্রবাসী কামরুলের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো।
পরে পুলিশই কামরুলের দেশত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জনিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের খবর জানাজানি হওয়ার আগেই কামরুল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পালিয়ে যায়।
‘কামরুল সৌদি আরবেই থাকে। সম্ভবতঃ ঈদের জন্য সে দেশে এসেছিলো। কিন্তু তার সৌদি ভিসা ছিলো। ইমিগ্রেশন পুলিশ খুনের বিষয়টি জানার আগেই সে দেশ ছেড়ে যায়, তাই তাকে আটক করা যায় নি,’ বলে মন্তব্য করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
কামরুল পালিয়ে গেলেও আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সিলেটের লামাকাজি এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেন আবলুসকে আটক করা হয়।
রাজনের শরীরে ৬৪ আঘাতের চিহ্ন
রাজনের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ আর শরীরের ৬৪টি স্থানে পাওয়া গেছে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আঘাতের কারণে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। রাজনের তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৬৪টি আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করেছে ময়নাতদন্তকারী দল।
মুহিতের ৫ দিনের রিমান্ড
লাশ গুম করার সময়আটক হয়েছিলো মুহিত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত (এমএম-২) এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন সোমবার তারে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।।
হত্যাকারীদের ধরতে রাতভর অভিযান
রাজনের খুনিদের ধরতে রাতভর অভিযান চালায় সিলেট মহানগর পুলিশ। অভিযানে চিহ্নিত অপরাধীদের এক আত্নীয়কে আটক করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) ফয়সাল মাহমুদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, হত্যাকারীদের বাড়িঘর, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য যেসব জায়গায় তারা থাকতে পারে সব জায়গায় অভিযান চলছে। রাতে একজনকে আটক করা হয়েছে, যে খুনিদের বিষয়ে তথ্য দিতে পারে।
উপ-কমিশনার বলেন, এমন অমানবিক ঘটনায় দায়ীদের ধরতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
শিশু নির্যাতন বন্ধে মুশফিকের আহবান
শিশু রাজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এই ঘটনাকে নিকৃষ্টতম অপরাধ উল্লেখ করে শিশু নির্যাতনকে না বলার আহবান জানিয়েছেন মুশফিক।
নিজের ফেসবুক পেজে মুশফিকুর রহিম ‘সে নো টু চাইল্ড অ্যাবইউজ’(‘শিশু নির্যাতনকে না বলুন’) লেখা পোস্টার হাতে নিয়ে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন।
রাজন নামে ১৩ বছরের শিশুটিকে মঙ্গলবার পিটিয়ে হত্যার ভিডিও চিত্রে দেখা দেখা যায়, শিশুটি বাঁধা অবস্থায় পানি চাইলে তাকে ঘাম খেতে বলা হয়। নিহত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।
সিলেটের কুমারগাঁও উপজেলার বাস স্টেশন এলাকার সুন্দর আলি মার্কেটের সামনে নির্মম হত্যার ঘটনাটি ঘটে।






