দোকান ভাড়ার প্রায় ৩ গুণ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ পরিশোধ করেও শুধুমাত্র মালিকপক্ষের একজনের স্বার্থে ঈদ-মৌসুমে দোকান মালিকদের পথে বসানোর পায়তারা হয়েছিলো বলে অভিযোগ করেছে মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতি। বণিক সমিতির অভিযোগ, ভবন মালিক আশরাফ কামাল পাশা মার্কেট ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করতে চান বলেই কৌশলে মার্কেট বন্ধের চেষ্টা করছেন।
দোকান সাময়িক খোলা রাখার আদেশ পেয়েও শঙ্কা কাটছে না গত ২০-২৫ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দোকান মালিকদের। যে জায়গায় ব্যবসা করছেন, তা নিয়ে এই ঈদে আপাতত শঙ্কা দূর হলেও সামনে ঈদের জন্য কেনা মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, ‘ভবনটির মালিক ৩ জন। এদের একজন আশরাফ কামাল পাশা। তিনি আমাদের সঙ্গে কোনোরকম আলাপ-আলোচনা না করেই হাইকোর্টে রিট করেন। এরপর হাইকোর্ট দোকান বন্ধের আদেশ দেন। তাই হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে বণিক সমিতির পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন এবং ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস অংশ নেন। এই আবেদনের পর আমাদের ছয় সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে।’
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দোকান খোলা রাখার দায়-দায়িত্ব দোকান মালিকদের চেম্বার বিচারপতির এমন আদেশ সম্পর্কে পিন্টু বলেন,‘ মার্কেটের ভবন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বুয়েটের সুপারিশ এবং রাজউক-এর সকল শর্ত মানতে আমরা রাজি আছি। তবে মার্কেট বন্ধ করে নয়, মার্কেট খোলা রেখেও ধাপে ধাপে মেরামতের কাজ করা যেতে পারে। ঢাকার একাধিক মার্কেটে দোকান খোলা রেখেও সংস্কার কাজ হয়েছে’।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কেট খোলা রাখতে চেম্বার বিচারপতির আদেশের পর আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দেড় মাস মার্কেট খোলা রাখার সুযোগ পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে আছে দোকান মালিকরা। দোকান খোলাতে স্বস্তিতে থাকলেও বিক্রির এই ভরা মৌসুমে শঙ্কিত ক্রেতারা মার্কেটে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে বলে জানান বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি । 
তিনি অভিযোগ করেন ,‘ ভবনের যে মালিকের অপচেষ্টায় মার্কেট বন্ধের আদেশ এসেছিলো সেই মালিকও নিজের দোকান ‘মৌচাক জুয়েলার্স’ খোলা রেখেছেন’।
তার বক্তব্যের সত্যতা খুঁজতে নিচ তলায় গিয়ে দেখা যায় জুয়েলারির দোকানটি খোলাই আছে। তবে দোকান খোলা রাখার ব্যাপারে মালিকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করে মৌচাক জুয়েলার্সের বিক্রয় কর্মীরা। এ বিষয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ভবনের ৫ম তলায় মালিকের অফিসে যেতে বলা হয়।
তবে ৫ম তলায় গিয়ে মালিকদের কারও দেখা পাওয়া যায়নি। কিন্তু লিফট থেকে নেমেই ভবনের দেয়ালে ফাঁটল ও মেরামতের চিহ্ন পাওয়া যায়। বণিক সমিতির অভিযোগ এবং ভবনের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে অফিসের কাউন্টারে বসা মো. কামাল জানান, ‘মালিকদের কেউ নেই’। যোগাযোগের জন্য তাদের ফোন নম্বর চাওয়া হলে তাও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত সময় পাড় করছে দোকান মালিকরা। মৌচাক মার্কেটটির ৫’শ দোকানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রায় ২১ হাজার মানুষের রুজি-রুটি সংশ্লিষ্ট জানিয়ে মালিক আশরাফ কামাল পাশার তৎপরতাকে হঠকারিতা বলে মনে করেন তারা। 
স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলেকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটে দু’টি কাপড়ের দোকান চালান সংযুক্তা দেবনাথ। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে মানুষ করতেই দু’টি দোকান চালাচ্ছি। ভবন নিয়ে এমন শঙ্কা সৃষ্টি করায় বিক্রির এই মৌসুমেও ভয়ে অনেকে মার্কেটে ঢুকছে না। ঈদের আগে এই অবস্থায় কী করবো তা বুঝতে পারছি না’।
ভবন নিয়ে জটিলতায় দোকান বন্ধের পরিস্থিতির শীঘ্র সমাধান চান ব্যবসায়ীরা। সমস্যা সমাধানে আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বণিক সমিতি।









