চোট সারাতে লন্ডন গেছেন তাসকিন আহমেদ। শরিফুল ইসলামও পুরোপুরি ফিট নন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। আইপিএল খেলতে থাকা মোস্তাফিজুর রহমানের অভাব এ মুহুর্তে অনুভব করছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।
টেস্ট খেলতে মোস্তাফিজের অনাগ্রহের ব্যাপারটি কারো অজানা নয়। বিসিবির সঙ্গে কেন্দ্রিয় চুক্তিপত্রে লাল বলের সংস্করণে নেই এ বাঁহাতি পেসার। তাই তাকে জোরাজুরি করার তেমন সুযোগ নেই। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনই খেলোয়াড়দের জন্য রেখেছিলেন স্বাধীনতা। জানতে চেয়েছিলেন কে কোন ফরম্যাট খেলতে চান। সে অনুযায়ীই হয়েছে চুক্তি।
তারপরও বিসিবি পরিচালক ও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। মোস্তাফিজ ইস্যুতে জানিয়েছেন নিজের অভিমত, ‘আমি তো চাই মোস্তাফিজ টেস্ট খেলুক। আমাদের তো এত বোলার নেই। হাতে গুনলে ইবাদত, তাসকিন, শরিফুল, খালেদ, রাহী… এরপর বোলার কই? বাংলাদেশের সেরা ফাস্ট বোলারই তো মোস্তাফিজ। অভিজ্ঞতা বলুন, নৈপুণ্য বলুন, টেকনিক-ট্যাকটিকস বলুন। এসব দিক থেকে তো মোস্তাফিজ-ই সেরা।’
‘আজ তাসকিন ইনজুরিতে। আমাদের মূল বোলারদের একজন খেলতে পারবে না। মোস্তাফিজ থাকলে দলের ভারসাম্য ঠিক থাকত। শরিফুলও যেকোনো সময় চোটে পড়তে পারে। তাসকিন ও শরিফুল এমন খেলোয়াড় যারা যেকোনো সময় চোটাক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে মোস্তাফিজ থাকলে আমরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে পারতাম। এখন এত খেলা, তিন ফরম্যাটে খেলা কঠিন। এখানে সবাইকে বিশ্রাম দিতে হবে। তাসকিনের যেমন বিরতি দরকার, শরিফুলেরও বিরতি দরকার। ইবাদত-খালেদ না হয় শুধু টেস্ট খেলে অন্য ফরম্যাট খেলে না। মোস্তাফিজকে এখানে সাহায্য করার জন্য হলেও রাখা উচিত। বোলার যখন তৈরি হয়ে যাবে তখন হয়ত মোস্তাফিজকে প্রয়োজন হবে না। আমি এটা জানি সাদা বলে মোস্তাফিজ ভয়ঙ্কর। কিন্তু এটাও জানি, লাল বলেও সে প্রতিপক্ষের কাছে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।’
‘সাকিব-তামিমদের বয়স ৩৪-৩৫। তাদের এখন বিরতি প্রয়োজন, তারা এটার যোগ্য। কিন্তু লিটন দাস তো বিশ্রামের যোগ্য না। লিটন যদি সাকিব-তামিম হত, বলতাম সেও বিশ্রামের যোগ্য। মোস্তাফিজের অবশ্যই টেস্ট খেলা উচিত। এখন তার পিক টাইম। আমরা তো বলছি না সব টেস্ট খেলো। আমি চাই বছর ৬-৮টা টেস্ট ম্যাচ বছরে তার খেলা উচিত। সেটা করলে আমরা রোটেট করতে পারব। আমাদের ১২ জনের একটা ফাস্ট বোলারদের পুল দরকার যারা তিন ফরম্যাটেই পারফর্ম করতে পারবে।’
‘অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তানের মতো এত ফাস্ট বোলার বাংলাদেশের নেই। ১৪০ গতিতে বল করার মত আমাদের চার-পাঁচটা ছেলেই আছে। টেস্ট ম্যাচে ১২৫-১৩০ গতি দিয়ে পারবেন না। টেস্ট জিততে হলে ১৪০+ বোলার দিয়েই জিততে হবে। এজন্যই আমি মনে করি মোস্তাফিজের খেলা উচিত। একসময় শুনেছিলাম বায়োবাবলের কারণে খেলতে চায় না। তবে আমার মনে হয় না এগুলো কোনো অজুহাত হতে পারে। তাসকিন, শরিফুলরা খেলতে পারলে, তারও খেলা উচিত’-বলেন সুজন।
ঈদের ছুটি শেষে আবারও মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। সোমবার থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে টেস্ট দলের অনুশীলন। রোববার সন্ধ্যায় বন্দরনগরীতে যাবে মুমিনুল হকের দল। ১৭ ক্রিকেটারের সঙ্গী হবেন কোচদের বিশাল বহর।
রোববার দুপুরেই বাংলাদেশ সফরে আসবে শ্রীলঙ্কা দল। তারা মিরপুরে অনুশীলনের পর বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে প্রথম টেস্টের ভেন্যুতে যাবে। ১৫ মে শুরু প্রথম টেস্ট।








