বিপিএলের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ শুরুর সময় ঘনিয়ে আসছিল, অথচ শেষ হচ্ছিল না দুপুরে বসা বিসিবির বোর্ড সভা! শেষ যখন হল, কুমিল্লা-রংপুরের লড়াই শুরুর তখন মিনিট দশেক বাকি। সভা লম্বা হওয়াতেই কৌতূহলের মাত্রাও বাড়ে। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের আগেই ফিসফাস, টেস্ট অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। পরে হলও সেটাই।
নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বোর্ড সভার পরই এল টেস্ট অধিনায়ক বদলের শুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে টেস্ট অধিনায়কত্ব করবেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে তামিম ইকবালকে সরিয়ে সাদা পোশাকে ডেপুটি করা হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
কেন অধিনায়ক বদল সংবাদ মাধ্যমের সামনে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চাননি বিসিবি সভাপতি, ‘একেবারেই সুনির্দিষ্ট কোন ভিত্তি আছে তা না। আর থাকলেও সেটা সব সময় বলা যাবে না।’
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে শেষ পর্যন্ত খানিকটা জানালেনও, ‘আমরা মনে করেছি এখানে একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। মুশফিকুর রহিমের সেরা ব্যাটিংটা আমরা চাইছি। সে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিক। তাকে চাপমুক্ত করতে চাচ্ছি। সবমিলিয়ে আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, শুধু এখনকার দেখলে তো হবে না, আগামী চার-পাঁচ বছর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সেট করার জন্যই এটা একটা পদক্ষেপ।’
মুশফিককে নির্ভার রাখতে এর আগে কিপিং ছাড়তে বলেছিল বিসিবি। কিপিং ছেড়ে শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের উপর প্রকাশ্যে দোষ চাপান মুশফিক। কোচের সঙ্গে দূরত্ব, একাদশ নির্বাচন নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, ম্যাচ হেরে বোলারদের তুলোধুনো করেও সমালোচিত হন মুশফিক। তাকে নির্ভার রাখার ব্যাপারটা তো ছিল আরও আগে থেকেই। সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের গোপনীয় বিষয়ে মন্তব্য করে আস্থা হারিয়ে ফেলাতেই যে মুশির উপর খড়গ নামল, সেটা সম্ভবত আঁচ করাই যাচ্ছে!
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সময়টাতে ৩৪ টেস্টে ৭টি জয়, ৯টি টেস্টে ড্র করতে পারে বাংলাদেশ। বিপরীতে ১৮টি হার সঙ্গী হয়। মুশফিকের অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ঘরের মাঠে একটি করে জয় ও শ্রীলঙ্কা সফরে দেশের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় বড় সাফল্য।








