কোপা আমেরিকায় রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে রীতিমতো লাতিন আমেরিকান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা কনমেবলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন লিওনেল মেসি। পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি কনমেবলও। মেসির অভিযোগকে অগ্রহণযোগ্য ও অস্তিত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার রাতে কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ৩৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে। যা নিয়ে ওঠে বিতর্কের ঝড়। ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় চিলির গ্যারি মেডেলকেও লাল কার্ড দেখানো হয়।
অ্যারেনা করিস্থিনিয়াসে বলের দখল নিতে গেলে মেডেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে মেসির। গোললাইনের বাইরে থেকে পরে মেসিকে বেশ কয়েকবার ধাক্কা দেন চিলিয়ান তারকা। মেসি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও রেফারি দ্রুতই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে লাল কার্ড দেখান। তার পরপরই মাথা গরম হিসেবে খ্যাতি পাওয়া মেডেলকেও লাল কার্ড দেখানো হয়।
ভিএআরে পরে ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, মেসিকে বড়জোর হলুদ কার্ড দেখানো যেতে পারতো। কিন্তু তখন এ প্রযুক্তির সাহায্য নেননি রেফারি। ম্যাচ শেষে তাই রেফারি ও কনমেবলের কঠোর সমালোচনা করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পরও রেফারিদের বিপক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মেসি। ম্যাচে দুটি পেনাল্টির আবেদন করেছিল আর্জেন্টিনা। দুটিতেই ভিএআরের সাহায্য নেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেন রেফারি। যার দ্বিতীয়টিতে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলে ব্রাজিল।
তাতে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মেসি বলেন, ব্রাজিলকে সুবিধা দেয়ার জন্যই সবকিছু সাজিয়েছে কনমেবল। তবে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় লাতিন আমেরিকান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।
বিবৃতিতে কনমেবল বলেছে, ‘ফুটবলে একদিন আপনি জিতবেন, অন্যদিন হারবেন। সততা এবং সম্মানের সঙ্গে ম্যাচের ফলাফল মেনে নেয়া ফেয়ার প্লে খেলার ভিত্তি। সবাইকে সমানভাবে দেখা হচ্ছে। এখানে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে যেটি সত্যকে প্রতিনিধিত্ব করছে না।’
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লাল কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রেফারি মারিও ডিয়াজ ভিএআরের সাহায্য নিতে পারতেন। তবে সেটি না করে মুহূর্তের মধ্যেই লাল কার্ড দেখিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
লাল কার্ডের ঘটনায় এতটাই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মেসি যে, জয়ী দলকে দেয়া পদক নিতেও যাননি। কেনো পদক নিতে যাননি এমন প্রশ্নের জবাবে কিং লিও বলেছেন, ‘কেননা, আমার এই দুর্নীতির অংশ হতে চাই না। এটি পুরো কোপার সম্মানের প্রতি ঘাটতি।’








