রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনের স্বীকারোক্তি আদায়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা বেধড়ক মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্স হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেছে।
ওই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর চোখের কোণে গুরুতর জখম হওয়ায় সেখানে চারটি সেলাই লেগেছে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। শনিবার দিনব্যাপি ঘটনাটি চাপা থাকলেও সন্ধ্যায় জানাজানি হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আব্দুর রহমান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি রাজশাহীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে।
ভুক্তভোগীর তথ্যমতে ওই ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহিল কাফি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিব ও ছাত্রলীগ কর্মী শুভ্র দেব। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আব্দুর রহমান নোট আনতে মাদার বখ্শ হলে বিভাগের এক সিনিয়র ভাইয়ের কাছে যায়। নোট নিয়ে আসার সময় হলের গেটে আসলে কাফি, গালিব, শুভ্রসহ কয়েকজন তাকে কোথায় গিয়েছিলো তা জানতে চায়। রহমান নোট নিতে এসেছিলো বলার পর তাকে চলে যেতে বলে পেছন থেকে কোমরে লাথি দেওয়া হয়। পরে হলের গেস্ট রুমে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে তারা। একপর্যায়ে তাকে হলে নিয়ে রড ও স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় মারধরকারীরা রহমানকে ‘গাঁজা সেবন করেছি’, এই মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে বলে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি মাদকে সেবন করনি, এ কথা যতবার বলেছি তারা ততোবারই আমার ওপরে চড়াও হয়েছে। তারা জোর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমাকে স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মাদক সেবন করেছি স্বীকারক্তি আদায় করে। আমি ভয়ে তাদের সামনে মাদক সেবন করেছি বলি, তারা সেই কথার ভিডিও মোবাইলে ধারন করে। এবং আমার কাছে থাকা কোম্পানির পাঁচ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। মারধরের পরে তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে রেখে চলে যায়।’
মারধর করে স্বীকারক্তি আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত আসাদুল্লাহিল গালিব বলেন, ‘হলে মাদক সেবনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রাতে হলে মাদকবিরোধী অভিযান চলছিলো। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হলের ছাদে কয়েকজনকে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। পরে দলের জুনিয়র কয়েকজন কর্মী তাদের ধাওয়া দেয়। বাকি সবাই পালিয়ে গেলেও আব্দুর রহমান পালাতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে চোখে আঘাত পায়। পরে আমরা তাকে আটক করে চড়-থাপ্পড় দিয়ে হল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘শুনেছি মাদার বখ্শ হলে মাদক সেবন করায় একজনকে আটক করেছে। তবে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। কয়েকজন হলের ছাদে গাঁজা সেবন করছিলো। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে হল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।’
জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, ‘ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মাদক সেবন করতে দেখে মারধর করেছে শুনেছি। পরে আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এর আগেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীর কক্ষে ভাংচুর করে।







