পৌষালী মাঝ রাত। পৌষ নিজেও মাঝ বয়সী। বাজে সরোদ। বেজে চলে করুণ ভায়োলিন। মৃদঙ্গম আর তবলা সঙ্গতে চলে যুগলবন্দী। পৌষের হিম হয় সুরে অন্তর্লীন।
পন্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদারের সরোদ আর ড. মাইশুর মঞ্জুনাথ বাজিয়ে চলেন রাগ সিমেন্দ্রমধ্যমাম। কর্ণাটকি রাগ। ভারতীয় রাগসঙ্গীতে কর্ণাটক থেকে ধার নেওয়া রাগটি কর্নাটকি ধারার ৭২ টি মেলাকর্তা রাগের ৫৭ তম রাগ। দশম চক্র দেশী রাগের ৩য় রাগ। যা হাঙ্গেরিয়ান মাইনর স্কেল বা পশ্চিমা সঙ্গীতে জিপসি মাইনর স্কেল নামে পরিচিত।
রাত বাড়ে বাড়ে সিমেন্দ্র মধ্যমামের ঝাঁঝ। বাড়ে আওয়াজ। কখনও সুরের দখল নেয় সরোদ আবার কখনও চড়ে বসে ভায়োলিন। সঙ্গতে পন্ডিত যোগেশ সামসির তবলা এবং আর অর্জুন কুমারের মৃদঙ্গমও করে নিতে চায় জায়গা। চড়ে বসতে চায় সরোদ-ভায়োলিনের ওপর স্থান। চক্রাকারে চলতে থাকে রাগের জায়গা দখলের খেলা। অবরোহ-আরোহনের এমন খেলায় যখন কিছুটা বিরতির আবহ তৈরী হয় তখন আবাহনী মাঠের দশ সহস্রাধিক দর্শক ফেটে পড়ে জোর করতালিতে।
এভাবে টানা দেড় ঘন্টার সরোদ-বেহালার যুগলবন্দী। তবলা আর মৃদঙ্গমের যোগ্য সঙ্গত। ফুরিয়ে আসে সময়। এবার খেয়াল ধরেছেন পন্ডিত যশরাজ।
রাত বাড়ছে। বাড়ছে সুরের ইন্দ্রজাল। চলতে থাকুক অনন্তকাল।
ছবি : তানভীর আশিক








