ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েল পরিচালিত দ্বিতীয় একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য গোপনে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করেছে ইসরায়েল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-নুখাইব শহরের কাছে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোর একটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছিল। ঘাঁটির অবস্থান ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় সেখানে এক ইরাকি সেনা সদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত বেসামরিক ব্যক্তির নাম আওয়াদ আল-শামারি (২৯)। তিনি স্থানীয় এক বেদুইন রাখাল ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চে তিনি দুর্ঘটনাবশত ঘাঁটির কাছাকাছি চলে গেলে একটি ইসরায়েলের হেলিকপ্টারের হামলায় নিহত হন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইসরায়েল এসব ঘাঁটির নির্মাণকাজ শুরু করে এবং ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সেগুলো সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
এসব ঘাঁটি মূলত বিমান সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব ঘাঁটির বিষয়ে অবগত ছিল। তবে বিষয়টি ইরাক সরকারকে জানানো হয়নি। এতে ওয়াশিংটন বাগদাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য গোপন রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ইরাকের পশ্চিম মরুভূমিতে ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর জন্য একটি লজিস্টিক ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে বিশেষ বাহিনীও মোতায়েন ছিল বলে জানানো হয়। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার সময় কমানো এবং উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের বেদুইন সম্প্রদায় কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছিল। তবে ইরাকি বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইরাকের আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কুদু এই ঘটনাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডারের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেন, ইরাক তার ভূখণ্ডকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না।







