বিসিবির বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২ অক্টোবরের এজিএম ও ইজিএম করতে আইনগত ‘বাধা নেই’ দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটিরও। বিসিবি তাই নিজেদের পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ধানমন্ডির বেক্সিমকো কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা প্রসঙ্গে জানালেন, গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুসরণ করে নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৩ অক্টোবর। সময়মত নির্বাচন করতে না পারলে বোর্ড পরিচালনায় তৈরি হবে অচলাবস্থা। সেটি যাতে না হয় সেজন্য রূপরেখা টেনেই এগোচ্ছিল বিসিবি। তাতে বিঘ্ন ঘটায় বিসিবির সাবেক পরিচালক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের করা একটি রিট। রিটে বিসিবির বর্তমান কমিটিকে কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত রাখতে, আর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। মঙ্গলবার সেটির ওপরই রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। কিন্তু এজিএম ও ইজিএম করতে আইনগত কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনজীবীরা।
‘গঠনতন্ত্রে যে নিয়ম আছে ওই অনুযায়ী চলবে, এখানে তো নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। প্রথম কাজ হচ্ছে এজিএম-ইজিএম করা। তারপর আমাদের বোর্ডে আবার আসবে ব্যাপারগুলো। তখন বোর্ড মিটিং করব। আগে এনএসসিএতে (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) পাঠাতে হবে, সেখানে অনুমোদন হয়ে আসবে। বোর্ড তখন মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নিতে হবে।’ নাজমুল হাসান বর্তমান বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এভাবেই জানান।
এজিএম-ইজিএম করার পর পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে বোর্ডের সকল কার্যক্রমই। আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে গিয়ে যদি ১৩ অক্টোবর পেরিয়ে যায় তখন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্তিতিতে কী করতে হবে তা জানতে আইনি পরামর্শ নেবেন বলেও জানালেন বিসিবি সভাপতি।
‘আমাদের কাছে প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে এজিএম-ইজিএম করা। আমাদের একটা বৈধ গঠনতন্ত্র দরকার। যেটার মাধ্যমে নির্বাচন হবে। আমরা একটা নির্বাচন করব, সেটা কীভাবে করব তা যদি বোর্ডে পাশ না হয়, এনএসসি অনুমোদন দিতে দেরি করে, বিষয়গুলো তো একটার সাথে আরেকটা অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। ওটা পাওয়ার পর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। এখান নির্বাচনের একটা তারিখ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কাউন্সিলরদের তালিকা চাইতে হবে। গঠনতন্ত্রে নিশ্চয়ই বলা আছে কতদিনের মধ্যে দিতে হবে। সেগুলো মেনেই আমরা সব করব। যদি দেখি গঠনতন্ত্রে দেওয়া সময়ের বাইরেও সময় লাগছে, আমরা আইনি সহায়তা নেব।’
সমস্যার শুরু হয় বেশকিছুদিন আগে। বিসিবির আসন্ন সাধারণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করায় ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি আইনি নোটিশ পাঠান মোবাশ্বের হোসেন। বিসিবির গঠনতন্ত্রসংক্রান্ত এক মামলায় আপিলের রায়কে নিজেদের পক্ষে দাবি করে ওই আইনি নোটিশে বলা হয়, ‘এই নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবিকে বার্ষিক ও বিশেষ সভা আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।’ পরে মোবাশ্বেরের রিটের ওপর পর্যালোচনা করে রুল জারি করেন আদালত।
বিসিবি ২০১২ সালের ১ মার্চ গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছিল। সেটি অনুমোদন না দিয়ে কিছু সংশোধনী এনে ওই বছরের নভেম্বরে নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করে এনএসসি। ডিসেম্বরে এনএসসির সংশোধিত গঠনতন্ত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিসিবির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ইউসুফ জামিল বাবু ও মোবাশ্বের হোসেন। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন, এনএসসির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অবৈধ। পরদিনই হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে এনএসসি ও বিসিবি। ওই বছর ২৫ জুলাই আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় এনএসসির সংশোধিত গঠনতন্ত্রেই নির্বাচনের অনুমতি পায় বিসিবি।







