বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, আর র্যাঙ্কিংয়ে সবার উপরে থাকা দল জার্মানি। প্রতিপক্ষ সেখানে র্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরের মেক্সিকো। কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবকে পাশে সরিয়ে রেখে দারুণ ফুটবলই উপহার দিল মেক্সিকো। জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম অঘটনের জন্ম দিয়েছে হুয়ান কার্লোস অসোরিওর শিষ্যরা।
রোববার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হিরভিং লাজানোর একমাত্র গোলে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মেক্সিকো।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটের পরিসংখ্যানটা একবার দেখে নিন। ৬৪ শতাংশ বলের দখলে জার্মানির, সেখানে মেক্সিকোর ৩৬। এই পরিসংখ্যানে যদি মনে হয় ম্যাচ দখলে ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের, তাহলে বোকা বনে যেতে হবে।
প্রতিপক্ষের নামের ভারে মেক্সিকো একবারও ঘাবড়ায়নি। তার প্রমাণ ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুবার মেক্সিকোর তেড়েফুড়ে আক্রমণে যাওয়া। ব্যর্থ হয়ে যেন আরও তেতে উঠে দলটি।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে আরও একবার আক্রমণে মেক্সিকো। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে হেক্টর মোরেনো মাথা ছুঁয়েছিলেন ভালোভাবেই। পরে সেই হেড জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের গ্লাভসে জমে যায় নিরাপদেই।
বারবার আক্রমণ সয়ে যাওয়ার মতো দল যে নয় জার্মানি, তা বুঝিয়ে দিতেও সময় নেয়নি দলটি। ২০ ও ২২ মিনিটে প্রতিপক্ষ পোস্ট বরাবর দুই শট নিয়ে কাঁপিয়ে দেয়ার ভয় দেখাল মেক্সিকোকেও।
কিন্তু মেক্সিকো কাঁপেনি। বরং দারুণ ছন্দে মাতিয়ে খেলেছে পুরো ম্যাচ। নড়বড়ে জার্মানদের বামপ্রান্ত ব্যবহার করে কিছুক্ষণ পরপর আক্রমণে উঠলেন হিরভিং লাজানো, হাভিয়ের হার্নান্দেজরা। তাতেই মিলেছে ফল!
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বামপ্রান্ত ব্যবহার করেই লাজানোর পায়ে বল বাড়িয়ে দিলেন হার্নান্দেজ। বল পায়ে দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ২২ বছর বয়সী লাজানোর নেয়া মাটি কামড়ানো শট সেই যাত্রায় ফেরাতে পারেননি নয়্যার। যাতে চেপে ১-০ করে ফেলে মেক্সিকো।
২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে এক হাতে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মেক্সিকান গোলরক্ষক গির্লেমো ওচোয়া। রোববারের ম্যাচের ৩৯ মিনিটে তার হাত চওড়া হয়ে উঠল আবারও। টনি ক্রুসের সেট পিস ওচোয়ার হাত ছুঁয়ে বারপোস্টে লাগলে পিছিয়ে থাকার হতাশায় বিরতিতে যাওয়া ছাড়া কিছু করার ছিল না জার্মানির।
দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোর রক্ষণকে উড়িয়ে দেয়ার পণ নিয়ে মাঠে নামে মরিয়া জার্মানি। স্যামি খেদিরার জায়গায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নামেন মার্কো রিউস। তারপর ভয়ঙ্করভাবে চাপ বাড়ল মেক্সিকোর অর্ধে। অবশ্য দাঁতে দাঁত চেপে সেই চাপ সয়ে গেছে হুয়ান কার্লোস অসোরিওর দল।
পরের ৪৫ মিনিটে মেক্সিকো কেবল চাপ সয়ে গেছে এমনও নয়। দারুণ খেলেছেন উইঙ্গার মিগুয়েল লায়ুন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে অন্তত দুবার কাউন্টার অ্যাটাকে উঠেছিলেন। ৭৮ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিং দিতে পারলে ব্যবধান বাড়তে পারতো তার দলের।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মেক্সিকো। জার্মানিও পায়নি গোলমুখ। তাতে রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন দেখল বিশ্বফুটবল।







