অনলাইনে, বিশেষ করে ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবরের উৎপাত যখন দিন দিন বেড়ে চলেছে, তখন ভুয়া খবর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে ব্রিটেনের পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।
দ্য টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান এবং ডেইলি টেলিগ্রাফসহ ছোটবড় বহু পত্রিকায় ছাড়া হয়েছে ফেসবুকের সেই বিজ্ঞাপন।
একটি সংবাদ আসল না ভুয়া তা চিহ্নিত করতে ওই বিজ্ঞাপনে ১০ টি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেখানে সংবাদের শিরোনাম, বানান এবং ছবির দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, লেখাটি প্রকাশের তারিখ এবং ওয়েবসাইটের ঠিকানাও যাচাই করে দেখতে বলা হয়েছে সেটি ব্যঙ্গাত্মক লেখা কি না জানার জন্য।
পরামর্শ ১০টি হচ্ছে –
১. শিরোনাম নিয়ে সন্দিহান হোন
ভুয়া খবরের শিরোনামগুলোতে চমক দেয়া অবাস্তব কথাবার্তা থাকে। ইংরেজি লেখাগুলো হয় সাধারণত বড় হাতের অক্ষরে। শেষে দাঁড়ি বা ফুলস্টপের বদলে প্রায়ই একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন থাকে।
২. ইউআরএল ভালো করে লক্ষ্য করুন
সন্দেহজনক ইউআরএল বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখলে মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে পরীক্ষা করে নেয়া ভালো।
৩. সংবাদের সূত্র যাচাই করুন
যে সূত্র থেকে আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে তা কতটা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য তা যাচাই করে নিতে হবে।
৪. অস্বাভাবিক ফরম্যাটিং খেয়াল করুন
ভুয়া খবর ছড়ানো ওয়েবসাইটগুলোতে প্রায়ই বানান ভুল থাকে, সংবাদের ফরম্যাটেও চোখে পড়ার মতো সমস্যা থাকে। এগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
৫. ছবি লক্ষ্য করুন
ভুয়া সংবাদে যে সব ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে অনেক কারসাজি করা থাকে। এ ধরণের মাল্টিমিডিয়া আইটেম নিয়ে সন্দেহ হলে অবশ্যই যাচাই করে নেয়া প্রয়োজন।
৬. তারিখ খেয়াল করুন
ভুয়া খবরগুলোতে অনেক সময় ঘটনার দিনক্ষণে অসঙ্গতি দেখা যায়। কখনো কখনো বহু পুরনো সংবাদও নতুন করে ছড়িয়ে দেয়া হয় পাঠককে বিভ্রান্ত করা উদ্দেশ্যে।
৭. তথ্য-প্রমাণ যাচাই করুন
লেখকের পরিচয় এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে দেখা উচিত। বেনামি সূত্রে লেখা বা দূর্বল প্রমাণের উল্লেখ করে তৈরি সংবাদ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।
৮. অন্য সংবাদমাধ্যমেও খুঁজে দেখুন
অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে যদি খবরটি প্রকাশিত না হয়, তাহলে সেটি ভুয়া হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে।
৯. খবরটি কি ব্যঙ্গ?
প্রকাশিত আর্টিকেলটি আসলেই খবর নাকি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক লেখা সেটি আগে বিবেচনা করে দেখা জরুরি।যে সূত্রে খবর দেয়া হচ্ছে সেটি এমন বিদ্রুপাত্মক সংবাদ ছড়ায় কিনা তাও জানা দরকার।
১০. কিছু লেখা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা
একটি আর্টিকেল পড়ার পর অবশ্যই চিন্তা করে দেখতে হবে সেটি সত্যি নাকি বিদ্রুপাত্মক। বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেই শুধু শেয়ার করা উচিত, নইলে না।
ব্রিটিশ পত্রিকায় প্রকাশের আগে থেকেই অবশ্য ফেসবুকে এই তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারের চাপ এবং সর্বশেষ গত মাসে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী এমপির ৮ই জুনের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভুয়া খবর ঠেকাতে দাবি জানানোর প্রেক্ষিতে পত্রিকাতেও পরামর্শের তালিকাটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।







