ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের একটি আদালত।
তৈমুর রাজা নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর স্ত্রীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি করার অভিযোগ আনা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার জন্য এটাই পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সর্বোচ্চ শাস্তি বলে জানিয়েছে দেশটির আইনজীবীরা।
এই রায় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি সামাজিক মাধ্যমের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম ফেসবুক। তবে ধর্ম অবমাননা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের উদ্বেগে সাড়া দিয়ে গত মার্চে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানিয়েছিলো সামাজিক মাধ্যমটি।
কিন্তু ব্যবহারকারীর অধিকার এবং গোপনীয়তা রক্ষার নীতিগত অবস্থানে কোনো শিথীলতা আনার পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানের মারদান শহরের আবদুল ওয়ালি খান ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী মাশাল খানকে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তার বিশ্ববিদ্যালয়েরই বহু শিক্ষার্থী মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ।
এখন পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে মাশাল খান হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িতের তালিকায় মোট ২৮ জন রয়েছে বলে জানিয়েছে খাউবার পাখতুনখাওয়া পুলিশ।
নিহত মাশাল খানকে যারা চিনতেন, সতীর্থ, বন্ধু ও শিক্ষক, তারা জানান, মাশাল ছিলেন একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন কৌতুহলী শিক্ষার্থী, যিনি প্রকাশ্যে ইসলামের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু তিনি প্রশ্ন করতেন অনেক।
১৭ এপ্রিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক শিক্ষার্থী ওয়াজাহাত পুলিশকে দেয়া বিবৃতিতে দাবি করেন, গত ১৩ এপ্রিল তাকে তাদের শ্রেণী প্রতিনিধি মুদাসসির বশির বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের অফিসে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে চেয়ারম্যান তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে মাশাল খানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমির সাক্ষ্য দিতে বলেন।








