২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের মধ্যে ফাইজার টিকার ট্রায়াল চালিয়ে দেখা গেছে এই টিকা প্রত্যাশিত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম নয়। গত শুক্রবার এই তথ্য জানায় মার্কিন ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার।
সংস্থাটি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের উপর ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে তৃতীয় ডোজ ট্রায়াল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তাদের গবেষণা তথ্য মতে, শিশুদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ ভ্যাক্সিনের দুটি ডোজ ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের শরীরে প্রত্যাশিত ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারছে না। যার কারণে তারা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার কমপক্ষে ২ মাস পর ৩মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ ভ্যাক্সিনের তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু করবে, যা এই শিশুদের শরীর প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হয়।
ফাইজারের পূর্বের গবেষণার ভিত্তিতে, শিশুদের জন্য ডোজের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রায়াল শুরু করা হয়। যা ছিলো ১২ বছরের উর্ধ্ব শিশুদের জন্য ৩০ মাইক্রোগ্রাম, ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য ১০ মাইক্রোগ্রাম এবং এর চেয়ে বয়সে ছোটদের জন্য ৩ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু নতুন অন্তর্বর্তী তথ্য মতে, ভ্যাক্সিনের এই নির্দিষ্ট পরিমাণ ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের শরীরে যথেষ্ট কার্যকর নয়।
ফাইজার আরও জানায়: ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকার তৃতীয় ডোজ প্রয়োগ সংস্থাটির ঝুঁকি নিরসনে তাদের প্রতিশ্রুতিকে প্রকাশ করে। যদি এই তৃতীয় ডোজ সফল হয় তবে ২০২২ সালের প্রথমার্ধে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকলের জন্য টিকার জরুরি ব্যবহার অনুমোদনে সমর্থনের জন্য ফাইজার তাদের সকল তথ্যাবলী জনসম্মুখে আনবে।
এছাড়া ফাইজার বেশি বয়সী শিশুদের উপরও টিকার তৃতীয় ডোজ ট্রায়াল দিবে, যার মধ্যে ৫ থেকে ১০ বছর এবং ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা এই টিকা পাবে।
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এলার্জি এন্ড ইনফেকসাস ডিজিজ এর পরিচালক ড. অ্যান্টনি ফাউসি বলেন, তাদের গবেষনায় উঠে আসা এই পরিবর্তনগুলো টিকা প্রয়োগে সমর্থনকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে। শিশুদের মধ্যে টিকা প্রয়োগ যা ২০২২ এর প্রথম তিনমাসে সম্পন্ন হবে ভাবলেও তা এখন আরও তিন মাস পিছিয়ে যাবে। তবে সঠিক মাত্রায় টিকা প্রয়োগের জন্য ফাইজারের গবেষণার জন্য এই সময় নেওয়াকে সঠিক বলেও জানান তিনি।







