বাংলা গানের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ মারা গেছেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
খবরটি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন সংগীতশিল্পী শফিক তুহিন।
এরআগে শাহনাজ রহমত উল্লাহর মৃত্যুর খবরটি প্রথমে জানান নৃত্যশিল্পী ডলি ইকবাল। ফেসবুকে একটি পোস্টও করেন তিনি। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যু সংবাদ।
শফিক তুহিন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বারিধারার বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি। আমরা এখন তাঁর বাসার দিকেই যাচ্ছি।
শাহনাজ রহমত উল্লাহর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে শ্বাস কষ্টে ভুগছিলেন তিনি।
বাংলা গানের কিংবদন্তি এই শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়েছে কিনা, জানাতে না পারলেও বারিধারা পার্ক মসজিদে বাদ জোহর তাঁর জানাজা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ননদ নাহার আবেদ। দাফন করা হবে বনানী সামরিক কবরস্থানে।
স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমতুল্লাহ একজন ব্যবসায়ী। ব্যক্তি জীবনে শাহনাজ রহমত উল্লাহ এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মেয়ে নাহিদ রহমত উল্লাহ থাকেন লন্ডনে আর ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমত উল্লাহ থাকেন কানাডায়।
শাহনাজ রহমত উল্লাহর ভাই আনোয়ার পারভেজ ছিলেন এদেশের প্রখ্যাত একজন সুরকার এবং সংগীত পরিচালক। আরেক ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক।
এক নদী রক্ত পেরিয়ে, একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়ে, একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল্, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ-এর মতো বেশকিছু দেশাত্মবোধক গান গেয়েছেন।
বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমত উল্লাহ’র গাওয়া চারটি গান স্থান পায়
গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই সংগীতশিল্পীকে ১৯৯২ সালে একুশে পদক দেয়া হয়। ২০১৬ সালে ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’-এর আয়োজনে আজীবন সম্মাননা জানানো হয় গুণী এই শিল্পীকে।








