প্রায় দেড় বছর পর আবারো রক্তাক্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাজপথ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে (স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়) সেন্ট্রাল প্যারিসের চ্যাম্পস-এলেসিস অ্যাভিনিউয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং দু’জন আহত হয়েছেন।
হামলাকারী বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেনরি বার্নডেট গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশকে লক্ষ্য করেই এ হামলা পরিচালনা করা হয়।
বিবিসিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দুকধারী হামলাকারী অতর্কিত হামলা চালায়, আর ব্যস্ত সড়কে পুলিশের গাড়ির দিকে লক্ষ্য করে একে ৪৭ রাইফেল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। পার্কিং করা গাড়িতে বসে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা তখনই হামলাকারীর গুলিতে নিহত হন ও অন্য দুজন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী মারা যায়।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওই এলাকা নিষিদ্ধ করেছে। পুলিশ এ হামলাকে জঙ্গি হামলা বলেই ধারণা করছে। ইতোমধ্যে জঙ্গি সংগঠন আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
নিহত হামলাকারীর ঠিকানা পুলিশ জানতে পেরেছে। তারা এখন হামলার সন্দেহভাজন দ্বিতীয় ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করছে, যিনি সম্প্রতি ট্রেনে করে বেলজিয়াম থেকে এসেছেন।
অন্যদিকে ফ্রান্সের একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল দাবী করছে, হামলাকারী নাকি পুলিশ হত্যার কথা সিকিউরিটি সার্ভিসকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে জানিয়েছিল।
রোববার দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ হামালার কারণে দুই প্রতিদ্বন্দী মারিন লি পেন ও ফ্রাঙ্কোজ ফিলন ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন শুক্রবার তারা সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রাখবেন।
প্যারিসে হামলার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সেস ওঁলাদ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, এটা জঙ্গি হামলা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না।
২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর প্যারিসে বন্দুকধারী হামলা, আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওইদিন দেশটিতে বার, রেস্টুরেন্টসহ মোট ছয়টি স্থানে হামলায় ২৩৮ জন নিহত হয়।
আরও দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:







