বিকাল তিনটায় গুলশানে গণজাগরণ মঞ্চের পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি সময়মতো পালিত হবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের সমন্বয়ক। দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান দূতাবাস ঘিরে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
১৯৭১-এর গণহত্যার দায় অস্বীকার, জঙ্গী মদদ, বাংলাদেশী কূটনীতিককে কোন কারণ ছাড়াই বহিষ্কারের ধৃষ্টতার প্রতিবাদে আজ বিকেল ৩টায় গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে পাকিস্তানের দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক দেয় গণজাগরণ মঞ্চ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মঞ্চের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও শুক্রবারই এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা। এর প্রেক্ষিতে ভিয়েনা কনভেনশনের সুযোগ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে নেয় পাকিস্তান। কিন্তু ভিয়েনা কনভেনশনে রাষ্ট্রদূতের অপরাধের বিচার করার কথা থাকলেও তা করেনি দেশটি।
ভিয়েনা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তারা পাকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মৌসুমি রহমানকে কোনরকম কারণ ছাড়াই বহিষ্কার করে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের এই ধৃষ্টতা প্রদর্শনের প্রতিবাদে মিছিল-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে গণজাগরণ মঞ্চ।মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার পাকিস্তানকে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে উপযুক্ত জবাব দেবার জন্য সরকারকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন।
ক্ষমা প্রার্থনা না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করাই এ ধৃষ্টতার উপযুক্ত জবাব বলে জানান তিনি। তবে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের ধৃষ্টতার কোনরকম জবাব দেয়নি।
এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারি শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ২০ জানুয়ারি গুলশানস্থ পাকিস্তানের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষণা করেন ইমরান এইচ সরকার। এর মধ্যে সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ঘেরাও কর্মসূচী পুনর্বিবেচনার কথা বলেন তিনি। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় আজ দূতাবাস ঘেরাওয়ে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ।
এর আগে ১৯৭১-এ গণহত্যার দায় অস্বীকার করে পাকিস্তান। তাদের দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জাল টাকাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে।পরে পাকিস্তানের দূতাবাস কর্মকর্তার সঙ্গে জঙ্গি যোগসাজোশ খুঁজে পাওয়া যায়। এরপরই পাকিস্তান ওই কর্মকর্তাকে ফেরত নেয়। এর কিছুদিনের মধ্যে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা মৌসুমী রহমানকে প্রত্যাহার করতে বলে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের মতো তাড়াহুড়ো করে দূতাবাস কর্মকর্তাকে দেশে প্রত্যাহার না করে পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাসে বদলি করা হয়।







