মহাবীর অর্জুন সত্য পালনের জন্য এক যুগ ব্রহ্মচর্য ব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। তখন মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হন। তবে অর্জুন রূপহীনা চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন।
এই অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের বরে এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবার চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে এই প্রশ্নে- যে অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের ‘চিত্রাঙ্গদা’ শিল্পকলা একাডেমীর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে। ২০১৮ সালের বিশ্ব নাট্য দিবসের বিশেষ প্রযোজনা হিসেবে নাটকটি মঞ্চায়ন করবে নাট্যদল স্বপ্নদল।
‘চিত্রাঙ্গদা’র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘চিত্রাঙ্গদা সবসময় সমকালীন। প্রেমের শ্বাশ্বত রূপ কি? বা আসলে প্রেম কি? বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহ? নাকি অন্তর্গত অনুভব? তার সমাধান এই নাটক।’
‘পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়।’
‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার কুশীলবরা হলেন সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, রানা, জেবু, সুমাইয়া, সামাদ, ঊষা, অর্ক, সম্রাট, আলী, বিপুল, অনিন্দ্য, নিসর্গ, সুকুমার, বিমল প্রমুখ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন।
স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপিটি অবলম্বনে। ২০১১ সালে সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত হয় মঞ্চনাটক চিত্রাঙ্গদা।
বাংলাদেশ ও ভারতে এ পর্যন্ত প্রযোজনাটির ৬২টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।







