বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
নিহতের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তিরও দাবিও জানান বেগম জিয়া। একই সঙ্গে ওই ভিক্ষুর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা
জ্ঞাপন করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী মনে হয় অশুভ পশুশক্তির কাছে আত্মনিবেদন করেছে। বিদেশী হত্যা থেকে শুরু করে শিয়া সম্প্রদায়, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মগুরুদের ওপর নৃশংস আক্রমণ এবং সিরিজ হত্যায় সরকারের ভ্রুক্ষেপহীনতার কারণেই তা ক্রমাগত চলছে।”
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বাইশারী ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের
একটি বৌদ্ধ বিহারে ধাম্মা ওয়াসা মং শৈ উ চাক নামে একজন ভিক্ষুকে কুপিয়ে
হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
ওই ঘটনার দুইদিন পর দেওয়া বিবৃতিতে ক্ষোভ ও ধিক্কার জানিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভূখন্ডের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ ও সংস্কৃতির পরম্পরায় সম্প্রীতি ও পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছাবোধের অন্যতম দৃষ্টান্ত। সেখানে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও সংঘাতের কোন অধ্যায় নেই। কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই বন্য প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই সমস্ত পৈশাচিক ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তা বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছে।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় বিরোধী দলের উপর চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের বক্তব্যের ধরণ দেখে মনে হয়-তাদের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত দুস্কৃতিকারিদের পাকড়াও করা নয়; বরং তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা। এ কারণেই কাণ্ডজ্ঞানহীন জঙ্গিগোষ্ঠী উৎসাহিত হয়ে প্রাণবিনাশী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে জঙ্গি অস্তিত্ত্ব নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য টেনে খালেদা জিয়া বলেন, এতে জনমনে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলে সরকার কি কোনো নীল নকশা ধরে এগুচ্ছে?
“ভোটারবিহীন সরকার দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। আর সেজন্যই তারা দানবীয় চক্রান্ত এঁটে চলেছে। কারণ আওয়ামী লীগ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, হিংসা ও হত্যায় উৎসাহী একটি দল।”
বিবৃতিতে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘এদেশ কেনো জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হলো? আওয়ামী শাসনামলেই কিভাবে বেআইনী, সভ্যতা, প্রগতি বিরোধী অশুভ জঙ্গীগোষ্ঠীর বিচরণ এতো তীব্র হলো? কেনো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ও ধর্মগুরুদের জীবন যাচ্ছে, আর কতদিন সাধারণ জনগণকে ভয়ার্ত পরিবেশের মধ্যে জীবন-যাপন করতে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেবার ক্ষমতা সরকার হারিয়ে ফেলেছে।’







