আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপার আরেকধাপ কাছে চলে এল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। সুপার লিগের চতুর্থ রাউন্ডে ৬ উইকেটের জয়ে আরেকবার দুর্দান্ত অলরাউন্ড ভূমিকা রেখেছেন নাসির হোসেন। বল হাতে ৩ উইকেটের পর ব্যাটে অপরাজিত ৫৬ রান গাজীর অধিনায়কের।
শুক্রবার ৩৬.৪ ওভারে আবাহনীর দেয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য ৪ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় গাজী। তাদের টানা চার জয়ে অবদান রেখে টানা চারবার ম্যাচসেরা হলেন নাসির।
টানা ৯ জয়ের পর টানা হারের খড়গে পড়েছিল গাজী। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে আয়ারল্যান্ড থেকে ফিরেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ে ফেরান নাসির। পরের দুই ম্যাচে তার অলরাউন্ড নৈপুন্যেই জিতল দলটি। আয়ারল্যান্ড যাওয়ার দিনও সেঞ্চুরি করেছিলেন নাসির। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়েই জাতীয় দলের সঙ্গে বিমানে চেপেছিলেন।
প্রিমিয়ার লিগে ৭ ম্যাচ খেলা নাসিরের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৭৭ রান। যার মধ্যে তিন ফিফটি ও দুই সেঞ্চুরি। ব্যাটিং গড় অবাক করার মতো ৪৭৭! মাত্র এক ম্যাচে আউট হয়ে বাকি ছয় ইনিংসে অপরাজিত থাকায় মোট রানের সমান গড় তার!
আগামী ৫ জুন হবে প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ড। যেখানে গাজী গ্রুপের প্রতিপক্ষ প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। শেষ ম্যাচে গাজী জিতলে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে হবে ২০১৬-১৭ মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়ন।
হেরে গেলেও সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে না। সেক্ষেত্রে হিসাবটা একটু জটিল। ১৫ ম্যাচে গাজীর পয়েন্ট ২৪। সমান ম্যাচে আবাহনীর ২২। এক ম্যাচ কম খেলা দোলেশ্বরের ২০। শনিবার মোহামেডানের বিপক্ষে খেলবে দোলেশ্বর। এ ম্যাচে জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ২২। ৫ জুন শেষ রাউন্ডে গাজীকে হারাতে পারলে তাদের পয়েন্টও হবে ২৪। একইদিনে আবাহনী শেষ ম্যাচে শেখ জামালকে হারিয়ে দিলে তাদের পয়েন্টও ২৪।
তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে রানরেট বিবেচনায় আসবে। রানরেটে এখন পর্যন্ত আবাহনী এগিয়ে। তিন দলে রানরেটও কাজে না দিলে হেড-টু-হেড বিবেচনায় আসবে। সেক্ষেত্রে শিরোপার দাবিদার হবে গাজীই। প্রথম পর্বে ও সুপার লিগে দুইবার মুখোমুখি দেখায় আবাহনীকে হারিয়েছে গাজী।
আবার যদি শনিবার মোহামেডানের বিপক্ষে দোলেশ্বর জিতে যায়, আর শেষ ম্যাচে গাজীকেও হারিয়ে দেয়; তখন শিরোপা যাবে দোলেশ্বরের ঘরে। কেননা উভয় দলের পয়েন্ট ২৪ করে হওয়ায় তখন দেখা হবে হেড-টু-হেড। তাতে গাজীর থেকে এগিয়ে দোলেশ্বর। আবার দোলেশ্বর শনিবার মোহামেডানের বিপক্ষে হারলে নিজেদের সমীকরণ মিলিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা যাবে গাজীর ঘরে। তবে সব হিসেবেই শিরোপার স্বপ্ন শেষ আবাহনীর।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি এমন হিসেব-কেতাবের সামনে অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে আবাহনী। নিয়মিত ওপেনার লিটন দাসকে নিচে নামিয়ে উপরে তোলা হয় সাইফ হাসানকে। এই স্ট্র্যাটেজি কাজে আসেনি। প্রথম ওভারেই আবু হায়দার রনির বলে সাজঘরে ফেরেন সাইফ (০)। অন্য ওপেনার সাদমান ইসলামও ফিরে যান শূন্য রানে। শুরুর চাপ আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি খালেদ মাহমুদ সুজনের শিষ্যরা।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৪১.২ ওভারে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন আফিফ হোসেন। পাঁচে নেমে লিটন করেন ৩০ রান। অধিনায়ক মিঠুন আলী ২৮ ও শুভাগত হোম করেন ২৩ রান।
নাসির হোসেন ও মেহেদী হাসান নেন ৩টি করে উইকেট। দুটি উইকেট নিয়েছেন আবু হায়দার রনি। হোসেন আলী ও আবরার কাজী নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
পরে সহজ লক্ষ্য সহজেই পাড়ি দিয়েছে গাজী। ৮৪ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হয়ে পঞ্চম উইকেটে নাসির ও নাদিফ জুটি গড়লে ৩৬.৪ ওভারে জয় পায় গাজী। নাসির ৫৬ ও নাদিফ চৌধুরী ২৬ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। ওপেনার এনামুল হক বিজয় ৪৬ ও মুমিনুল হকের ব্যাট আসে ২১ রান।
ভারতীয় স্পিনার মানান শর্মা দুটি, শুভাগত হোম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিয়েছেন একটি করে উইকেট।








