মনোয়ার হোসেন মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: আড্ডা দিতে দিতে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করে আনার নজির রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এই আড্ডার সময়ে হাতে থাকা চায়ের কাপ যে কতবার খালি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এভাবেই গভীর রাতে টিএসসিতে প্রতীকী প্রতিবাদ- ‘টি পার্টি আফটার এইট পিএম’-এ স্মৃতিচারণ করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ভিত্তিক সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম রাত আটটার মধ্যে শেষ করার আদেশ দিয়ে নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নোটিশের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে প্রশাসন সেই নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয়। এরই দিন কয়েক পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিএসসির মূল ভবনের বাইরে থাকা চায়ের দোকানগুলো রাত আটটার পর বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা। মূলত এই ঘটনার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এ পার্টির আয়োজন করা হয়।
এ পার্টির আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তারা জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের। আমরা এখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবো । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে কোনোভাবেই এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে এই ক্যাম্পাস আমাদের, আমরাই এখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবো।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিম রাফি, জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের ইমতিয়াজ নাদভী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মঞ্জুরুল ইকরাম, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের খায়রুল ইসলাম শুভ ছিলেন মূল আয়োজক হিসেবে।
টিএসসির প্রায় ৩৩ বছরের পুরোনো স্বপন মামার দোকানে রাত আটটার পর থেকে বসেছিল তরুণ তরুণীদের মিলনমেলা। অন্য দোকানগুলো বন্ধ করা হয় প্রশাসনের আদেশানুযায়ী রাত আটটায়। প্রতিবাদ জানানোর জন্যে এ আয়োজনকে সামনে রেখে শুধু স্বপন মামার দোকানই খোলা ছিল। গিটার, ইউকিলেলের টুংটাং শব্দ, তরুণ গায়ক গায়িকাদের গলাছেড়ে সংঘবদ্ধ সংগীতে টিএসসি আগের প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে দাবি করেন উপস্থিত সকলেই। এই আয়োজন চলে সারারাত।
আয়োজক ওয়াসিম চ্যানেল আই কে বলেন, ‘কয়েকদিন পরপরই এরকম রহস্যজনকভাবে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। আমাদের এই প্রয়াস আপাতঃদৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে টিএসসিকেন্দ্রিক জলঘোলা করার প্রতিবাদ মনে হলেও অনেকাংশেই স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ।’
এই অভিনব কর্মসূচীকে স্বাগত জানিয়ে আইন বিভাগের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীলতার দ্বারা সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। প্রশাসন নিরাপত্তার কাচি দিয়ে এই সাংস্কৃতিক চর্চাকে আঘাত করতে পারে না। রাত আটটার পর টিএসসিতে আড্ডা, উন্মুক্ত আলোচনা বন্ধ করা মানে মৌলবাদী সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়া।
আয়োজকরা জানান ১৩ নভেম্বর রাতে টিএসসি নয় ছাত্রদের হলে গিয়ে আড্ডা দিতে বলেন ঢাবি প্রক্টর। এর জের ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা আর প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এই অভিনব কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।








