ইতালীয় নাগরিক টাভেলা সিজার হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন আসামী বিএনপি নেতা এম. এ. কাইয়ুমের ছোট ভাই এম. এ. মতিনকে বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সুইমিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ২ নম্বর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইতালীয় নাগরিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা টাভেলা সিজার। ভিডিও ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে গত ২৭ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে।
এদের মধ্যে ৩ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা বলেছে বড় ভাইয়ের নির্দেশে তারা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
ওই কথিত বড় ভাইকে ধরতে অভিযানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাতে বেনাপোল সীমান্ত থেকে সাবেক কমিশনার এম. এ. কাইয়ুমের ছোট ভাই এম. এ. মতিনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ বলছে, আগে গ্রেফতার ৩ জনের জবানবন্দি থেকে এম. এ. মতিনের নাম উঠে এসেছে।
পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, মতিনকে গ্রেফতার করে বুধবার রাতেই ঢাকা নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
বিদেশী নাগরিক, ব্লগার, প্রকাশক, পুলিশ হত্যার সঙ্গে বিদেশী জঙ্গি সংগঠনের কোন যোগসূত্র এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দায় স্বীকার করে অনলাইনে প্রকাশ করা দাবিগুলো পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আসছে। অতীতেও অনেক সময় এ ধরণের দাবিগুলোর সত্যতা প্রমাণ হয়নি। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।’
নাশকতা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। দিন-রাত জুড়েই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে সন্দেহভাজন ব্যাক্তি ও যানবাহনে।
তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার সাত্যকি কবিরাজ ঝুলন বলেন, সবসময়ই সতর্ক থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মাত্রা বাড়ানো হয়। সেই অনুযায়ী যথাযথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।







