‘জাতির পিতা বেঁচে থাকলে ২৫-৩০ বছর আগেই দেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো। এদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি তিনি করতে পারতেন। কিন্তু তাকে তা করতে দেয়া হয় নাই। ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ’৭৫ এর পর এদেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র হয়েছে। পাকিস্তানের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে জঙ্গিবাদ-বাংলা ভাইদের জন্ম দেয়া হয়েছে’।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে হবে’।
জঙ্গিদের আত্মঘাতি প্রবণতার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যা মহাপাপ। যারা মনে করে আত্মঘাতি হয়ে বেহেস্তে যাবে, তারা আসলে দোযখে যাবে’।
ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন,‘১০ জানুয়ারি অপেক্ষারত পরিবারের আগে প্রথমে দেশের জনগণের কাছে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই এসেছিলেন। বাঙালির মুক্তির রূপরেখা দিয়েছিলেন তাঁর ভাষণে। আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর সেই রূপরেখা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ধারণ করে দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত করতে কাজ করছে’।
সবুজ টি-শার্ট পরা লোকারণ্য জনসভায় বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন,‘এখানেই ৭ মার্চ মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ২৪ বছরের শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। দেশ মুক্তির নায়ক পাকিস্তানের কারাগার-ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে ১০ জানুয়ারি এখানেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠন এবং বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার আদর্শ তুলে ধরেছিলেন তাঁর ভাষণে’।

সেই রূপরেখা বাস্তবায়নে তার সরকারের গৃহিত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। খাদ্য চাহিদা পূরণ, তৃণমূলের বাসস্থান,শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সামগ্রিক আর্থসামাজিক খাতে সরকারের সফলতাগুলো তুলে ধরেন।
তবে দেশের অগ্রগতিতে বিএনপি-জামায়াতের প্রতিবন্ধকতার সমালোচনায় তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে থাকলেও তাদের মন-আত্মা থাকে পাকিস্তানে। স্বাধীনতা অর্জনই তারা মানতে পারে নাই। ৭ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর তারা আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ২৩১ জনকে পেট্রোল বোমায় হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলনের নামে আইন-শৃংঙ্খলাবাহিনীর ২৩ জন সদস্যকে হত্যা করেছে তারা ট্রাক-বাসের ড্রাইভার। খেটে খাওয়া মানুষ , শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী, গর্ভবতী নারীও তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি’।
তবুও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু মুখে নয় বাস্তব হচ্ছে। প্রতিটি গ্রাম নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। পিতা আমাদের দেশ দিয়েছেন। আমরা অঙ্গীকার করছি দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো’।








