এর নাম কপাল। আর চারটি ওভার খেলা হলেই বিপদ হয়ে যেত! শেষ পর্যন্ত সেটা হলো না। বৃষ্টির কল্যাণে দ্বিতীয় ম্যাচে এক পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে এখন টিকে থাকার ক্ষীণ একটা আশা বেঁচে থাকলো মাশরাফিদের। সেক্ষেত্রে পরের ম্যাচে নিজেদের জিততে হবে। আর অস্ট্রেলিয়াকে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে হারতে হবে।
ওভালে যখন তৃতীয় দফায় বৃষ্টি নামে, তখন ১৬ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৮৩। ২০ ওভার খেলা হয়ে গেলে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচের ফলাফল বের করা যেত।
দ্বিতীয় দফা বৃষ্টি শেষে ৭ ওভার কমিয়ে ম্যাচের বয়স ৪৩ ওভারে নিয়ে আসা হয়। অজিদের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ১৬৬। এরপর আবার বৃষ্টি নামলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
বৃষ্টিস্নাত দিনেও বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দল নিয়ে প্রথম ম্যাচের পর তুমুল আলোচনা হয়। মাশরাফিও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দ্বিতীয় ম্যাচের কম্বিনেশন নিয়ে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ কী ভাবলো সেটা বোঝা গেল না। মোসাদ্দেকের মতো ফর্মে থাকা মিডলঅর্ডারকেই বসিয়ে দেয়া হল!
বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে মাশরাফি আগে ব্যাটিং নেন। রান বাড়িয়ে রাখতে পারলে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষ বৃষ্টি আইনে বিপাকে পড়বে, হিসাব ছিল সেটাই। কিন্তু বাংলাদেশ যে মানের ব্যাটিং করলো তাতে হিতে বিপরীত হতে পারতো। তামিম একা করলেন ৯৫, বাকিরা মিলে ৮৭!
মাশরাফির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব একটা নেই। কিন্তু শেষ কয়েকটি ম্যাচ প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছে। নতুন বলে মিরাজকে দিয়ে একবারও চেষ্টা করলেন না। শেষদিকে ধীরে বল করার কৌশল হিসেবে স্পিনার ব্যবহার করেননি। ওই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু আগে ব্যবহার করতে পারতেন। ওয়ার্নার-স্মিথ যতক্ষণে ম্যাচের কোমর ভাঙেন, ততক্ষণে মিরাজ কেবল হাত ঘোরান একবার। তাতে চার রান দেন।
আপনার দলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার থাকলে আপনি সাহায্য পেতে চাইবেন। সেই সাহায্য না আসলে দল ভুগবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হচ্ছে সেটাই। সাকিবকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাট হাতে ২৯ রান করার পর বল হাতে ফর্ম নেই। ১৬ ওভার পর্যন্ত মাশরাফি তাকে এক ওভার করানোর ‘ঝুঁকি’ নিলেন না।
আগের ছবিটায় শুধু তামিমের মুখ। এদিন শুরু থেকে স্বভাববিরুদ্ধ ধীর গতিতে খেলতে থাকেন। প্রথম ৩৭ বল থেকে রান তোলেন ২৩। ৫১ বলে ২৮। অর্ধশতকে পৌঁছান ৬৯ বলে। শেষ পর্যন্ত ১১৪ বল খেলে পাঁচ রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এই নিয়ে তিনবার তিনি ৯৫ রানে কাটা পড়লেন।
তামিম যখন এমন হিসেবি, অন্যরা তখন যাওয়া আসার মিছিলে মত্ত। যার শুরু হয় সৌম্য সরকারকে (৩) দিয়ে। অফস্টাম্পের বাইরের বলে যেভাবে খোঁচা দেন, রিপ্লে দেখলে নিজেও হাসবেন। এরপর যান ইমরুল কায়েস (৬)।
আগের দিন মুশফিক তামিমকে কিছুটা সঙ্গ দিয়েছিলেন। এদিন সেই তিনিও ফিরলেন ৯ রান করে। সাকিব ছিলেন ২৯ রান করা পর্যন্ত। সাব্বির করেন ৮! ৪৩তম ওভারে স্টার্ক আবার হ্যাটট্রিকের হুমকিতে ফেলেন বাংলাদেশকে। পরপর দুই বলে ফিরে যান মাশরাফি (০) এবং রুবেল হোসেন (০)।
এই অবস্থার ভেতর তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ (১৪) দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষদিকে তার লড়াইটা স্কোর বড় করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে আরেকটা বিষয় যথেষ্ট ছিল। বৃষ্টি। যতটুকু হয়েছে, তাতেই বাংলাদেশের মুখে হাসি ফুটেছে!








