গর্ভাবস্থায় মেনে চলতে হয় অনেক স্বাস্থ্যবিধি ও সাবধানতা। সাধারণত গর্ভাবস্থায় মা এবং সন্তানের কোনও প্রকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি না নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
যখন একজন নারী গর্ভবতী হয় তখন আশেপাশের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুমহল থেকে নানা প্রকারের পরামর্শ আসতে থাকে। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া কিছুটা কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়ায়, কী করবেন কী করবেন না। করোনার টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিতে এ ধরনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
গর্ভাবস্থায় একজন নারী অবশ্যই ওইসব বিষয়গুলো এড়াতে চায় যা স্বাস্থ্য জটিলতা হতে পারে অথবা ভ্রূণের কোনও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার টিকা নেওয়ার ফলে কী সমস্যা হতে পারে, তা ভাবার পাশাপাশি টিকা না নিলে সম্ভাব্য কী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে, এ বিষয়গুলো অবশ্যই চিন্তা করতে হবে একজন গর্ভবতী নারীকে।
গর্ভাবস্থায় সাধারণত বিভিন্ন রোগের ঝুকিঁ বাড়ায়। সহজেই যেকোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিন্তু যখন করোনার টিকা নেওয়া হয় তখন অন্যান্য সম্ভাব্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
এছাড়া একজন গর্ভবতী নারী যখন টিকা গ্রহণ করবেন তখন মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়ম অনুসরণ না করলেও হয়।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, করোনার সংক্রমণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার গর্ভবতী নারীকে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। যার মধ্যে ২৯২ জন মারা গেছেন।
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, আমেরিকান একাডেমি অফ ফিজিশিয়ান এবং অন্যান্য নেতৃত্বস্থানীয় সংস্থাগুলোর মতে গর্ভাবস্থায় যেকোনও স্বাস্থ্য জটিলতা এড়াতে গর্ভবতী নারীদের এবং যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের প্রত্যেকে গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুরক্ষার জন্য টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে গর্ভাবস্থায় করোনা সংক্রমণ যেমন শিশুর জন্য ক্ষতিকারক তেমনই হতে পারে নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম অর্থাৎ প্রি-ম্যাচিউর বেবি।
ইউসি সান ফ্রান্সিসকোর সহকারী অধ্যাপক ডেবোরা কারাসেক জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম শিশু এবং মা দুজনের জন্যই বেশ সংকটজনক। শিশুদের সর্বাধিক ঝুঁকি থাকতে পারে প্রাক জন্মের ক্ষেত্রে, তাদের শরীরে নানান সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অবশ্যই টিকাগ্রহণ করলে এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।







