দেশে গণহারে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করেছে হংকং সরকার। মঙ্গলবার স্বেচ্ছাসেবীরা দেশের মানুষের মাঝে গণহারে পরীক্ষা শুরু করেছেন। চীন সরকারের সহায়তায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে হংকং।
ভাইরাসের সম্ভাব্য তৃতীয় তরঙ্গের অবস্থান দুর্বল করে দেয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে গণপরীক্ষা বলছে হংকং সরকার।
স্থানীয় অনেকের সন্দেহ, এর মাধ্যমে চীন সরকার স্থানীয়দের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু হংকং সরকার এ জাতীয় উদ্বেগ ও অবিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে বলছে, নমুনা সংগ্রহের পর সমস্ত নমুনা নষ্ট করে ফেলা হবে। এখানে কারো কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত করা হবে না।
আল জাজিরা বলছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এ পরীক্ষা শুরু হয়। এতে ১০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫ হাজারের অধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। এই কাজে সহায়তার জন্য ৬০টি টিম পাঠিয়েছে চীন সরকার।
সাড়ে ৭০ লাখ মানুষের শহরে প্রায় ৫ লাখ এর বেশি লোক এই কর্মসূচিতে সাইন আপ করেছেন, যা কমপক্ষে এক সপ্তাহ ধরে চলবে।
তবে সরকারের আশা, ৫০ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী দুই সপ্তাহ বাড়ানো যেতে পারে।
যদিও হংকংয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় হ্রাস পেতে শুরু করেছে। দৈনিক নতুন শনাক্তও কমে এসেছে। গত রোববার সেখানে মাত্র ১৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। আর সোমবার শনাক্ত হয় মাত্র ৯ জন।
এই অবস্থায় গণহারে পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি আক্রান্তদের খুঁজে বের করে আলাদা করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ পরীক্ষা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সহায়ক হবে।
একসময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অধীনে। যদিও হংকংয়ে স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। হংকংয়ের ক্ষেত্রে চীন ‘এক দেশ, দুই নীতি’ গ্রহণ করেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চীনের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে হংকংয়ে আন্দোলন চলছে।







