সরকারের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেবিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় পার্টি। আর এ বিষয়ে গণশুনানিকে বিইআরসি নাটকে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’।
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় পার্টি(জাপা)।
বৃহস্পতিবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু এক যুক্ত বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং দাম কমানোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মূল্য বৃদ্ধি হবে দেশের আপামর মানুষের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এর মতো। এমনিতেই দেশের সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকল নিষ্পেষিত হয়ে আছে। তার ওপর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করায় দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যাবে। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ চরমভাবে দুর্দশার মধ্যে পড়বে।’
এতে আরো বলা হয়েছে, ‘যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে, সেখানে তেলের দাম না কমিয়ে উল্টোভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
সিপিবি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হায়দার আকবর খান রনো ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এক বিবৃতিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার জনগণের স্বার্থে কোনো যুক্তি না মেনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র নির্দেশ মেনে ও তাদের সহযোগিদের খুশী করতে জনগণের পকেট কেটে দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিলো। এটি অব্যাহত থাকলে বাড়ি ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে যাবে।
এতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের (বিইআরসি) সমালোচনা করে বলা হয়, মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা প্রমাণ করলো এই প্রতিষ্ঠান গণশুনানীতে জনমতের কোনো মূল্য না দিয়ে গণশুনানীকে নাটকে পরিণত করলো। যা এই প্রতিষ্ঠানকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, এতোদিন ধরে বলা হচ্ছিলো তেলের দামের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এজন্য দাম বাড়াতে হবে। অথচ বিশ্ব বাজারে যখন তেলের দাম এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে তখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এছাড়া গ্যাস খাত লোকসানে নেই। ২০০৯ সালে মূল্য বৃদ্ধির সময়ে বর্ধিত টাকায় যে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের কথা বলা হয়েছিলো সেই তহবিলে জমা ৪ হাজার কোটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি। বরং ‘টাকা নাই’ এই অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্র বিদেশি কোম্পানীকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় গৃহস্থালিতে কম টাকা দিযে বেশি গ্যাস ব্যবহার করা হয় এটিও সঠিক তথ্য নয়। বরং গৃহস্থালিতে মিটার চালু করা গেলে সাধারণ মানুষের গ্যাস বিল বর্তমানের চেয়েও কম আসতো। তাই এই মূল্য বৃদ্ধিও কোনো যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিবি’র নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের এই অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। সরকার অনড় থাকলে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বাধ্য করতে হবে।
এজন্য নেতৃবৃন্দ মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে দেশের সচেতন মানুষকে ও বাম-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কাল শুক্রবার ঢাকায় শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ
গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সিপিবি-বাসদ-এর উদ্যোগে আগামীকাল ২৮ আগস্ট শুক্রবার, বিকেল ৫টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ বিক্ষোভ ও ২৯ আগস্ট শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে সিপিবি।
গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পবির্তনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ (মার্কসবাদী)। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকার অযৌক্তিকভাবে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলো। গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা জনগণের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






