বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম স্পন্সর হয়েছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘টপ অব মাইন্ড’। ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় তারা পরবর্তী দু’ বছরের জন্য জাতীয় দলের স্পন্সরশিপ স্বত্ত্ব কিনে নিয়েছে।
আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে জাতীয় দলের স্পন্সর হিসেবে ‘টপ অব মাইন্ড’ এর নাম ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি।
স্পন্সরশিপের জন্য ছয়টি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে সবোর্চ্চ দরদাতা হিসেবে ‘টপ অব মাইন্ড’কে বেছে নেয় বিসিবি। চুক্তির অধীনে জাতীয় ক্রিকেট দল ছাড়াও মেয়েদের জাতীয় দল এবং অনুর্ধ-১৯ দলকে স্পন্সরশিপ স্বত্ত্ব থাকবে তাদের।
বিসিবি সভাপতি বলেন, টিম স্পনন্সরশীপের জন্য একটা বিডিং ছিলো। এখানে ছয়টা কোম্পানি অংশ নেয়। আমরা এর বেস প্রাইস লিখেছিলাম ৩০ কোটি টাকা। সাহারার স্পনসরশিপ হঠাৎ করে টার্মিনেট করার জন্য পরবর্তী দুবছর আমাদের বাকি থাকে। সাহারার সাথে আমাদের যেটা ছিলো ২৮-২৯ কোটি টাকার। সেজন্যই আমরা ত্রিশ কোটি টাকা ফ্লোর প্রাইস লিখেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, এই টিমের পারফরম্যান্স এবং টিমের এখন যে র্যাঙ্কিং এটা শুধু বাংলাদেশে না আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা যদি কোনো বিড করি, আমি নিশ্চিত আগের চেয়ে অনেক ভালো অফার পাবো। আমাদের রেটিংটাই বেড়ে গেছে। রেটিংয়ের সাথে সরাসরি এর সম্পর্ক আছে।
অাইসিসির কোনো নিজস্ব ইভেন্ট এর মধ্যে না পড়লেও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সকল সিরিজের বাইরে এশিয়া কাপও স্পন্সরশিপের মধ্যে পড়বে।
সাহারাকে কিছু অতিরিক্ত জিনিস দেওয়া হয়েছিলো যা নতুন স্পন্সররা পাবে না উল্লেখ করে নাজমুল বলেন, আইসিসির ইভেন্টসগুলো চুক্তিতে না থাকলেও সাহারা ফ্রি পেয়েছেন। কিন্তু আমরা এখন এগুলোকে বাদ দিয়েছি।
সকাল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিসিবি কার্যালয়ের সামনে রাখা কাঁচের স্বচ্ছ বক্সে দরপত্র জমা দেয়। বিসিবির প্রস্তাবিত ভিত্তিমূল্য ছিলো ৩০ কোটি টাকা।
দরপত্রগুলো পরে খোলা হয়। ‘টপ অব মাইন্ড’-এর সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলো বাংলাদেশ দলের সাবেক স্পন্সর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।
বিডিংটা তিনটি পর্যায়ে হয় এবং প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীন এগিয়ে ছিলো, কিন্তু শেষ বিডে টপ দুজনকে ডাকা হয়েছিলো উল্লেখ করে নাজমুল বলেন, গ্রামীণ ও টপ অব মাইন্ডের মধ্যকার শেষ বিডে গ্রামীণ ৪১ কোটি টাকা এবং টপ অব মাইন্ড ৪১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা বিড করে।
সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সিরিজের সময়ও বাংলাদেশ দলের স্বত্ত্ব পেয়েছিলো ইভেন্টম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘টপ অব মাইন্ড’। পরে তারা তা ‘প্রাণ’-এর কাছে বিক্রি করে।
জাতীয় দলের নতুন স্পন্সরের নাম ঘোষণা করে বিসিবি সভাপতি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সন্তুষ্ট এবং সুখী।
তিনি বলেন, গতবার সাহারা যখন নেয় তখন বাংলাদেশী যারা ছিলো তারা ধারে কাছেও ছিলো না। এবার সাহারার চেয়ে অনেক ভালো অফার পেয়েছি আমরা। দেশী কোম্পানির কাছ থেকে পেয়েছি এটাই সবচেয়ে বড় কথা। কত টাকা পেলাম তার চেয়ে দেশী কোম্পানি এগিয়ে এসেছে এতে আমি আরো বেশি খুশি।






