৮৩ সালের কথা। রুপালি পর্দার তখন স্বর্ণযুগ। পরিচালক আকবর কবীর পিন্টু নির্মাণ করলেন সামাজিক ছবি ‘কালোগোলাপ’। নান্দনিক সংমিশ্রণে তৈরি ‘কালোগোলাপ’ ছবির মূল ভূমিকায় রাজ্জাক, ববিতা, বুলবুল আহমেদ। সবাই তখন জনপ্রিয়তার একেবারে তুঙ্গে। কিন্তু এই ছবিতে বড় বড় সব তারকার সাথে সাবলীল অভিনয় করে সবাইকে চমকে দিলেন নবাগত অভিনেত্রী দিলারা। চলচ্চিত্রে সবে পা রেখেছেন তিনি। ‘সুন্দরী’র পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ছবি মাত্র। বড় পর্দায় অভিজ্ঞতা তেমন হয়নি। কিন্তু অভিনয় নৈপূণ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় ‘কালোগোলাপ’-এর সুবাস ভালোমতোই ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হলেন তিনি। নামকরা পরিচালকদের নজর কাড়তে তাই সময় লাগলো না। দিলারার কাজল কালো চোখেও তাই অভিনয় নিয়ে স্বপ্ন আরো বিস্তৃত হলো।
এই ছবিতে উমা চৌধুরীর গাওয়া ‘ভালোবাসা বিনা বাঁচা যায় না, ভালোবাসা পেলে এ মন কিছু চায় না’ এই অসাধারণ গানে লিপ করেন তিনি। হ্নদয়কাড়া কথা-সুর আর সিনেমার চিত্রায়নে গানটি এখনও কালজয়ী। এই গানটির দৃশ্যে চাঁপা (দিলারা) আর সেলিমের (নায়ক রাজ রাজ্জাক) মধ্যেকার প্রেম রসায়নের অভিব্যক্তিটি ছিল চমৎকার। গানটি এখনও যেকেউ দেখলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণের আওয়াজ অনুভব করবেন। ভেতরটা মুচড়ে উঠবে। সেই ৩৮ বছর বছর আগের এই গানের দৃশ্য নিয়ে কথা বলতেই সুবেশী অভিনেত্রী দিলারা স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন। জানালেন তিনি তখন মঞ্চের সিঁড়ি মাড়িয়ে সিনেমাতে পা রেখেছেন মাত্র। ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন, কাট রপ্ত করেছেন কিছুটা। কিন্তু এই ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর যখন সেটে পেলেন বিপুল জনপ্রিয় নায়ক রাজ রাজ্জাক, রুপালী হিরো বুলবুল আহমেদ, ইন্টারন্যাশনাল ট্যালেন্ট ববিতা আর এটিএম শামসুজ্জামানের মতো তুখোড় ভিলেন- তখন তার যেন রক্ত হিম হয়ে এসেছিল। উত্তেজনা আর চ্যালেঞ্জে ঘুমুতে পারতেন না। তুমুল জনপ্রিয়দের সামনে তিনি তখন একেবারেই নতুন। আর নায়ক রাজ্জাকের বিপরীতে কো-অর্টিস্ট হিসেবে অভিনয় করা ছিল তার কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই স্বপ্নকে জয় করেই তিনি এগিয়ে যান।
সালমা কথাচিত্রের ব্যানারে ভিন্নতর নামের ‘কালোগোলাপ’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর তার চরিত্র এবং প্রাণবন্ত অভিনয় তাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে আসে। ভালোবাসা বঞ্চিত অভিমানী এক নারীর চরিত্র তিনি ফুটিয়ে তোলেন খুব সাবলীলভাবে। চরিত্রের সাথে একাকার হয়ে যান। স্বভাবতই দ্রুতই দর্শকদের কাছে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা দুই-ই তার ভীষণরকম বেড়ে যায়। ফিল্মে অভিষেক পর্বের ‘কালোগোলাপ’ এখনও অভিনেত্রী দিলারাকে ভীষণ নস্টালজিক আর আনমনা করে। রুপালী পর্দার স্মৃতির পাহাড় ঠেলে পেছনে তাকালেই তাই ‘কালোগোলাপ’ তাঁকে ভীষণরকম ডাকে। এই ছবির নির্মাতা আকবর কবীর পিন্টু, নায়ক রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, এটিএম শামসুজ্জামান, আয়েশা আখতার, টেলিসামাদসহ কলাকূশলীদের অনেকেই বেঁচে নেই। ছবির গানগুলো যিনি অপূর্ব সুরে দর্শক-শ্রোতা হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন সেই গুণী সুরকার আলী হোসেনও বেঁচে নেই। বেঁচে থাকা অনেকের মধ্যে আছেন ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের ববিতা আর তিনিও। ভালোবাসা বিনা নয়, অভিনেত্রী দিলারা বেঁচে আছেন মেয়ে-নাতনী, বন্ধু-সজ্জ্বন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সিনেমার গুরুজনসহ সবার ভালোবাসা নিয়ে।

এই ছবির আলোচনার সূত্রেই দিলারা জানালেন সত্তর দশকের শেষলগ্নে রফিকুল বারী চৌধুরীর হাত ধরে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘সুন্দরী’ ছবিতে অভিনয় করার মধ্যে দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। ‘সুন্দরী’ ছবিতে চরিত্র ছোট হলেও সেটিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণই। ‘সুন্দরী’ এবং ‘কালোগোলাপ’-এর পর অভিনেত্রী দিলারা সিনেমাতে আরও নতুন রূপে উদ্ভাসিত হন। তখন সিনেমার সেই সোনালী সময়ে প্রতিমাসেই নতুন নতুন ছবিই ছিল সিনেমা হলের সৌন্দর্য। বড় ছোট সব শিল্পীই ভীষণ ভীষণ ব্যস্ত। সিনেমার শিল্পীরা দর্শকদের কাছে তখন আরাধ্য বিষয়। সামাজিক ছবির সাথে সাথে তখন ফ্যান্টাসি ছবিরও তুমুল এক সময় তৈরি হয়। এমনক্ষণে কালোগোলাপ-এর মাঝে লুকিয়ে থাকা লালগোলাপ মেয়েটিকে পরিচালক এফ কবীর চৌধুরী কাস্ট করেন সওদাগর এবং পদ্মাবতী ছবিতে। দুটি ছবিই সুপার-ডুপার ব্যবসাসফল হয়। ওয়াসিম-অঞ্জু, জাভেদ-দিলারা জুটি-সিনেমা দর্শকরা যেন মুগ্ধময় চোখে বরণ করে নেন। এখনও তাই ‘সওদাগর’ ছবির দিলারা-জাভেদের লিপের ‘ও আমার মরমীয়া পাষাণে বেঁধেছ হিয়া, কাছে এসে ধরা কেন দাওনা’ গানটি বড্ড সজীব এবং প্রাণবন্ত। রুনালায়লা এবং খুরশীদ আলমের কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি দিলারা-জাভেদ অদ্ভুত নৃত্যশৈলী দিয়ে দর্শকদের মাতোয়ারা করে দিয়েছেলেন। সেই রেশ এখনও আছে বললে ভুল হবে না।
দিলারা অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার ভাষায় সামাজিক, ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন মিলিয়ে একশত হবে। প্রায় সব ধরনের চরিত্রেই তিনি অভিনয় করেছেন। বোন-ভাবী, বান্ধবী, স্কুল মাস্টার থেকে শুরু করে রাজরাণীর চরিত্র কোনোটিই বাদ যায়নি। দিলারা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সুন্দরী (পরিচালক: আমজাদ হোসেন), কালোগোলাপ (পরিচালক আকবর কবীর পিন্টু), সওদাগর (পরিচালক: এফ কবীর চৌধুরী), পদ্মাবতী (পরিচালক: এফ কবীর চৌধুরী), নাজমা (পরিচালক: সুভাষ দত্ত), বৌরাণী (পরিচালক: সাইফুল আজম কাশেম), ব্যথার দান (পরিচালক: কামাল আহমেদ), এখনই সময় (পরিচালক: আব্দুল্লাহ আল মামুন), প্রহরী (পরিচালক: আল মাসুদ), জীবনধারা (পরিচালক: মতিন রহমান), কুদরত (পরিচালক: মমতাজ আলী), অগ্নিকন্যা (পরিচালক: কামাল আহমেদ), অগ্নিপুরুষ (পরিচালক: ), লালুভুলু (পরিচালক: কামাল আহমেদ), শেষ উত্তর (পরিচালক: আজিজুর রহমান বুলি), তিনবাহাদুর (এফ কবীর চৌধুরী), শাহী খান্দান (পরিচালক: সিরাজুল মিজান), নাদিরা (পরিচালক: ফখরুল হাসান বৈরাগী), মার্শাল হিরো (পরিচালক: খসরু নোমান), সতীপুত্র আবদুল্লাহ (পরিচালক: আফতাব খান টুলু), নকল শাহাজাদা (পরিচালক: শামসুদ্দিন টগর), আজাদ (পরিচালক: এমএ মালেক), আদর্শবান (পরিচালক: আবু মুসা দেবু), অসতী (হাফিজ উদ্দিন), সতীকমলা (সামসুদ্দিন টগর), নুরী ( সামসুদ্দিন টগর), রসিয়া বন্ধু (পরিচালক: কামরুজ্জামান), জুলুম (পরিচালক: ইলতুৎমিশ), রক্তের বন্দী (পরিচালক: শহীদুল ইসলাম খোকন), রাধাকৃষ্ণ ( পরিচালক: মতিন রহমান), সাজা (পরিচালক: খসরু নোমান), বিজলী (মুস্তাফিজ), ক্ষতিপূরণ (পরিচালক: মালেক আফসারী), সম্রাট (সামসুদ্দিন টগর), লাল মেমসাহেব (পরিচালক: এসএম শফি), চন্দ্রাবতী (পরিচালক: মতিউর রহমান বাদল), জারকা (পরিচালক: আবুল খায়ের বুলবুল), তুফান মেইল (পরিচালক: এম এ মালেক), রঙিণ সাত ভাই চম্পা (পরিচালক: মিলন চৌধুরী), রাজার মেয়ে পারুল (পরিচালক: মিলন চৌধুরী), নুরী ( শামসুদ্দিন টগর), বন্ধু আমার (পরিচালক: আওকাত হোসেন), আশা নিরাশা (পরিচালক: রোজী), বনবাসে বেদের মেয়ে জ্যোস্না (জিল্লুর রহমান), সেতারা (পরিচালক: আজিজুর রহমান)।
তার লিপের সিনেমার অনেক গানই ভীষণ জনপ্রিয়। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসা বিনা বাঁচা যায় না’ (ছবি: কালোগোলাপ, শিল্পী: উমা চৌধুরী ও প্রবাল চৌধুরী), ও আমার মরমীয়া পাষাণে বেঁধেছ হিয়া (ছবি: সওদাগর, শিল্পী: রুনা লায়লা ও খুরশীদ আলম), ‘তুমি যে আমার ওগো স্বপ্ন’ ( ছবি: অগ্নিকন্যা, শিল্পী: রুনা লায়লা), ‘মন যদি মনের মতো সাথী খুঁজে পায়’ ( ছবি: পদ্মাবতী, শিল্পী মীনা বড়ুয়া ও প্রণব ঘোষ), গাঁথব ফুলের মালা, সাজাবো বরণ ডালা (ছবি: আদর্শবান, শিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন), দুটি জীবনে প্রেমেরও বাঁশি বাজে (ছবি: তুফান মেইল, শিল্পী: সাবিনা ও খুরশীদ আলম), প্রেমের স্বর্গ খুঁজে নেব (ছবি: আজাদ, শিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন ও এন্ড্রু কিশোর), ওরে পান্না-হীরা চুনি, আমার সাধের জাদুমণি (ছবি: সাজা, শিল্পী: রুনা লায়লা), আজ আছি আমি (ছবি: কুদরত, শিল্পী: উমা চৌধুরী), মনের মানুষ নাই আমি কোথায় গেলে পাই (ছবি: নাদিরা, শিল্পী: সাবিনা ইয়াসমিন), হায়রে হায় একি জ্বালা, পরেছি যে মালা (ছবি: বন্ধু আমার, শিল্পী: আশা ভোঁসলে ও বাপ্পি লাহিড়ী)। এরকম আরও অনেক গান রয়েছে।

অভিনয় জীবনের কথা তুললেই দিলারা যেনো ফের সেই স্বপ্নের দেশে চলে যান। স্মৃতির আকাশ থেকে নিয়ে আসেন নানান কথা মালা। স্মৃতি আওড়িয়ে বলেন,‘আমার সৌভাগ্য যে সিনেমার স্বর্ণকালের আমিও একজন। শ্রদ্ধেয় রাজ্জাক ভাই, ফারুক ভাই, প্রবীর দাদা, বুলবুল ভাই, ওয়াসিম ভাই, সোহেল রানা ভাই, জাভেদ ভাই-এর মতো নায়কদের সাথে অভিনয় করেছি। রোজী আপা, শাবানা আপা, ববিতা আপা, অঞ্জু আপা, প্রিয় রোজিনা আপার সাথে অভিনয় করেছি। নিজেকে ভাগ্যবতীও মনে হয়। শাবানা, ববিতা আপার সাথে যখন অভিনয় করি তখনতো রীতিমতো শিহরিত হতাম।
সিনেমার কত সুখ স্মৃতি, কত খুনসুটি, কত ঘটনা। চোখ বুজলে সেগুলো দেখতে পাই। প্রতিটি অভিনেতা-অভিনেত্রী আমাদের রপালী পর্দার হিরক খণ্ড। উনাদের সবার কাছেই চিরঋণী। এসব রত্নের সাথে অভিনয় করা যে কত গৌরবের, কত অহংকারের তা এখন বুঝতে পারি। উনাদের ভালোবাসা, স্নেহ সবসময় পেয়েছি। এখনও তাই উনাদের সবাইকে অন্তরে ধরে আছি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।’ একই সাথে তিনি স্মরণে আনেন বরেণ্য পরিচালকদের। বলেন, ‘পরিচালক আমজাদ হোসেন, কামাল আহমেদ, সুভাস দত্ত, এফ কবীর চৌধুরী, আকবর কবীর পিন্টু, আজিজুর রহমান, শামসুদ্দিন টগর, আওকাত হোসেন, হাফিজ উদ্দিন, মতিন রহমানসহ আরো অনেক চলচ্চিত্র পরিচালকের সাথে কাজ করেছি। উনারা সবাই আমার গুরুজন। শ্রদ্ধেয় পরিচালকদের অনেকেই প্রয়াত হয়েছেন। প্রতিটি পরিচালক আমার আত্মার সাথে মিশে আছেন। ক্যারিয়ারে সত্যিই অনেক ভালো গুণী পরিচালকের সান্নিধ্য পেয়েছি। যাঁরা ছিলেন ব্যক্তিত্বে ও জ্ঞানে ভালো ও বড় মনের মানুষ।’
৯৭ সালে অভিনয় জীবন থেকে অনেকটাই নির্বাসনে ছিলেন দিলারা। পরিবার নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে আবার প্রাণের টানে ফিরে আসেন। দীর্ঘ বিরতি শেষে বড় পর্দার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘ক্ষমা নেই’ ছবিতেও অভিনয় করছেন। বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই ছবিটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে। কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন প্রিয় মানুষ শেখ ফজলুর রহমান মারুফ। জেড এইচ মিন্টু পরিচালনা করছেন ছবিটি। ছবিতে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মা। অভিনয় জীবনে এমন একটি চরিত্র নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে থাকবে।’
অভিনয় জীবন নিয়ে অপূর্ণতা ও অতৃপ্তি আছে দিলারার। বলেন, ‘অভিনয় জীবনে অবশ্যই অতৃপ্তি রয়ে গেছে। সেই অতৃপ্তি নিজের মধ্যে অনুভূত হয়। বারবার মনে হয় নিজে যতটুকু জানতাম, হৃদয়ে ধারণ করতাম তাঁর সবটুকু আমি মেলে ধরতে পারিনি। হয়ত আমার দুর্ভাগ্যই। আমি সেরকম একটা একক ক্যারেক্টার পাইনি। সেটা পেলে হয়ত নিজেকে আরো তুলে ধরতে পারতাম।’
সিনেমার বাইরে অভিনেত্রী দিলারা রাজনীতির মানুষও। বাংলাদেশ অওয়ামী লীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। রাজনীতির বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে রাজপথে থেকেছেন। মিছিল-মিটিং-এ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হ্নদয়ে ধারণ করেন তিনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব। ভালোবাসেন এই দেশ এই মাটিকে।
চলচ্চিত্র আর রাজনীতির মানুষ হয়েই আগামী দিনগুলোতে বেঁচে থাকতে চান গুণি অভিনেত্রী দিলারা। অভিনেত্রী দিলারা তাই বলেন, ‘জীবনের মধুরতম দিনগুলো পার করে এসেছি। সেই দিনগুলো এখন চলার পথে ছায়া আর মায়া হয়ে আছে। চলচ্চিত্রে যাঁদের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছিলাম তাঁদের অনেকেই নেই। আমি বেঁচে আছি। এই বেঁচে থাকা আরও সৃজনশীল হতে স্বপ্ন দেখায়। মানুষের জন্য নিজেকে আরও উৎসর্গ করতে চাই।’ সেই ৩৮ বছর আগে ‘কালোগোলাপ’ ছবিতে যে সুর হৃদয়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী দিলারা ফের সেই প্রসঙ্গ টানতেই বললেন, ‘সত্যিই ভালোবাসা বিনা বাঁচা যায় না…..। সবার ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে আছি। চলচ্চিত্রের প্রিয়জন, শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত-দর্শক, আমার পরিবার, মেয়ে-নাতনি সবার ভালোবাসা নিয়েই আরও অনেকদিন বেঁচে থাকতে চাই।’







