বোর্ডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বে চলতি বছরের শেষে অ্যাশেজ হবে কিনা সেটিরই নিশ্চয়তা নেই। তবে প্রতিবারের মত অ্যাশেজ ঘিরে কথার উত্তাপ ছড়ানোর কাজটা শুরু হয়ে গেছে। শুরুটা করলেন ড্যামিয়েন ফ্লেমিং। অজি সাবেক পেসারের কথায় অ্যাশেজের সুবাস যেমন নাকে লাগল, বাজল লড়াইয়ের ডামাডোলও। সামনের অ্যাশেজে যে কুখ্যাত বডিলাইন সিরিজের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন ফ্লেমিং।
ফ্লেমিং হুমকি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চার পেসারের সামনে কাপাকাপি শুরু করবেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। স্টার্ক-কামিন্স, হ্যাজেলউড-প্যাটিনসন চতুষ্টয় পেস-তোপে ফিরিয়ে আনবেন ৮০ বছর আগের বডিলাইন সিরিজের আমেজ।
অ্যাশেজের শতবর্ষী ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে আছে ১৯৩২-৩৩ সালের দ্বৈরথটি। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের উদ্দেশ্যে দুই ইংলিশ পেসার হ্যারল্ড লারউড এবং বিল ভোসের টানা গা বরাবর বোলিং জন্ম দিয়েছিল তীব্র সমালোচনার। অজিদের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যানকে আটকাতে দলের সব ফিল্ডারকে লেগসাইডে রেখেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন। আর পেসারদের বলেছিলেন প্রতিপক্ষের গা বরাবর বাউন্সারের ঝড় তুলতে। তাতে কাজও হয়েছিল। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ। তবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল ভদ্রলোকের খেলার কৌশলকে। জন্ম দিয়েছিল বিতর্ক।
ফ্লেমিংয়ের দাবি এবারের অ্যাশেজে আবারও ফিরবে সেই কুখ্যাত সিরিজের কৌশলে। তবে এবার পাল্টা আঘাত হানবে অজিরা। সিরিজের নামও দিয়েছেন ফ্লেমিং- ‘বডিলাইন-২’।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে ভঙ্গুর দাবি করে অজি সাবেক পেসারের দাবি স্টার্ক-কামিন্সদের সামনে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বেন ইংলিশরা, ‘ইংলিশরা নিজেদের মাটিতে যেভাবে সাউথ আফ্রিকান পেসারদের বাউন্সে মার খাচ্ছে, আমাদের ছেলেদের সামনে তাদের যে কী অবস্থা হবে! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যে বাউন্স, তাতে এবারের অ্যাশেজে দ্বিতীয় বডিলাইন সিরিজের জন্ম হবে।’
অবশ্য বডিলাইন সিরিজের সময়কালে ফিল্ডিংয়ে ছিল না কোন বাধ্যবাধকতা। সেজন্যই লেগসাইডে পুরো দলকে মোতায়েন করতে পেরেছিলেন জার্ডিন। বর্তমান সময়ে চাইলেই ইচ্ছা মত ফিল্ড পজিশন সাজাতে পারেন না অধিনায়করা, থাকে কিছু নিয়মের বেড়াজাল। এতে হতাশ ফ্লেমিং, ‘আমি জানি তখন ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে নিয়ম কানুন ছিল না। এখন আছে। তাই বডিলাইন সিরিজের পুরোটা দেখার কপাল হয়তো আমাদের হবে না।’








