এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে ‘ওরা ১১ জন’ ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের সংবর্ধনা জানানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ঘোষণা করা হলো, ‘চিত্রপরিচালক পি এ কাজলের মরদেহ নিয়ে এসেছেন তার স্বজনেরা। যারা তাকে শেষবারের মতো দেখতে চান, যেতে পারেন।’
জানা গেল, শমরিতা হাসপাতালের শবহিমাগার থেকে পি এ কাজলের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য রায়েরবাজার শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার আগে অ্যাম্বুলেন্সে করে শেষবারের মতো তাকে এফডিসিতে আনা হয়।
দেখা গেল, হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া তেমন কেউই আসেননি অ্যাম্বুলেন্সের কাছে। তাদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, প্রবীণ সংগীত পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল প্রমুখ। এ সময় জহির রায়হান কালার ল্যাব মিলনায়তনে আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তাদের কেউই বের হননি।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর জেড এইচ শিকদার উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া চিত্রপরিচালক পি এ কাজল। তিনি দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৪ মে তাকে জেড এইচ শিকদার উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পি এ কাজলের পুরো নাম পূর্ণেন্দু আচার্য কাজল। তার স্ত্রী সুচিত্রা আচার্য। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
চাষী নজরুল ইসলামের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন পি এ কাজল। ১৯৯১ সালে ‘গোধূলী’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। শাকিব খান থেকে শুরু করে সাইমন পর্যন্ত প্রায় সব তারকাই তার ছবিতে অভিনয় করেছেন।
‘সাব্বাস বাঙালি’, ‘ভণ্ড ওঝা’, ‘গণ দুশমন’, ‘ভালোবাসা আজকাল’, ‘প্রাণের স্বামী’, ‘এক টাকার বউ’–এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তিনি । তার নির্মিত সর্বশেষ ছবি ‘চোখের দেখা’ গত বছর মুক্তি পায়।







