মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের ঘটনায় যু্বলীগ বলছে: সকল বিতর্কের পরও তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখছে। তদন্তে যদি একরাম নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিশ্বাস করে সংগঠনটি।
‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত একরাম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করেছেন টেকনাফ উপজেলার সভাপতি হিসেবে।
একরামের নিহত হওয়া এবং পরে একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের বিষয়ে যুবলীগ সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী
বলেন: একরাম যুবলীগ সাবেক নেতা। একরামের নিহত হওয়া এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত অডিও রেকর্ড ইস্যুতে যুবলীগ অবগত আছে। তবে, সকল বিতর্কের পরও যুবলীগ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখতে চায়। নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের তিনি যেমন সুষ্ঠু বিচার করেছেন, এখানেও তেমন কিছু ঘটে থাকলে প্রধানমন্ত্রী দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সুষ্ঠু বিচার বিধান করবে বলে বিশ্বাস করে যুবলীগ।
গত ২৬ মে মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক।
ওই ঘটনার পর বের হয়ে আসে, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমন কি পুলিশও বলছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই ছিল না।
এরই মধ্যে শুক্রবার নিহত একরামুল হকের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে একটি অডিও ক্লিপিংস তুলে দেন। যেখানে স্পষ্টই উঠে আসে বন্দুকযুদ্ধে নয়, একরাম নিহত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তের পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। অডিও রেকর্ডের এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র লোড করার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর একটি গুলি চলে। আর্তনাদ করে উঠেন একরামুল হক। আবারও গুলি চলে। ফোনের অপরপ্রান্তে ও আল্লাহ বলে বিলাপ শুরু করেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম।
চ্যানেল আই অনলাইনের এক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে একরামুল হক কখনোই মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। তার পরিবারের সদস্য, এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সাধারণ মানুষও স্বীকার করেছেন তিনি ছিলেন একজন সৎ মানুষ।
শুধু স্থানীয় আওয়ামী লীগই নয়, একরামের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিও বলছে একরামুল হক ছিলেন সৎ মানুষ, ভালো মানুষ।







