রাজধানীর উত্তরায় স্কুল ছাত্র আদনান হত্যাকাণ্ডের আগেও কিশোর অপরাধীরা অনেককে কুপিয়ে বা অন্যভাবে জখম করেছে। আর কথিত ‘ডিস্কো‘ গ্রুপের সদস্যরা আদনানকে এমনভাবে কুপিয়েছে যাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
নিহত আদনানের বাবা কবির হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, জেএসসি পরীক্ষার পর যে ছুটি ছিল সেই ছুটিতে উত্তরার অনেক স্কুল শিক্ষার্থীকে মারাত্মক জঘম করেছে ‘ডিস্কো বয়েজ গ্রুপ’সহ অন্য গ্রুপের সদস্যরা।
‘আমার ছেলের ভাগ্যটা খারাপ। ও কোন গ্রুপে ছিল না। কিন্তু, ওকে যেভাবে কুপিয়েছে একটা পশুকেও ওইভাবে কেউ কোপায় না,’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি।
কিশোর ছেলেকে হারিয়ে গত তিনদিনের কান্নায় বাবা কবির হোসেনের চোখের জলও এখন শুকিয়ে গেছে। আর আদনানের মা শয্যাশায়ী। এখনো তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে ব্যাডমিন্টন খেলতে যাওয়া ছেলে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। তাকে মেরে ফেলেছে তার বয়সী অন্য কয়েকজন কিশোর।
আদনান নিহত হওয়ার পর তার বাবা কবির হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: অপরাধী যেই হোক না কেন আমার ছোট্ট ছেলের হত্যার প্রকৃত বিচার চাই। প্রকৃত খুনী যেন হারিয়ে না যায়। কেউ যেন এ নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও না করে।
পুলিশের কাছ থেকে শতভাগ সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন কবির হোসেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করে একজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের কাজ এগিয়ে চলেছে। খুব শিগগিরই সব অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা যাবে বলে তারা আশাবাদী।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের একটি সড়কে আদনান কবীরকে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েকজন কিশোর। সে উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: হত্যাকাণ্ডের পরপরই ‘ডিস্কো বয়েজ গ্রুপে’র দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে একজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়। তার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তথ্য যাচাই বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ চলছে। খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়াকে জানানো হবে।
তিনি বলেন: কিশোরদের এলাকাভিত্তিক দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই খুন হয় স্কুল শিক্ষার্থী আদনান।
আদনান হত্যার ঘটনায় উঠে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, কিশোররা এলাকাভিত্তিক ‘গ্যাং’ বানিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। উত্তরায় কিশোরদের এরকম দুটো গ্রুপের নাম ‘নাইন স্টার’ এবং ‘ডিস্কো বয়েজ।’
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: মামলাটির তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদেরকেও যথাসময়ে গ্রেফতার করা হবে। আসামিরা যে গ্রুপেরই হউক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে এই হত্যার বিচার করা হবে। জড়িত কেউ রেহাই পাবে না।
‘ডিস্কো গ্রুপে’র কয়েকজন সদস্য এর আগে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটলেও বের হয়ে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাদের সঙ্গে ‘নাইন স্টার গ্রুপ’সহ অন্যদের দ্বন্দ্ব চলছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে, এতোদিন পুলিশ তেমন একটা গা করেনি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
আদনান নিহত হওয়ার পর অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বি কিশোর গ্রুপগুলোর বিষয়ে এখন একটু নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।
রোববার রাতেও মামলায় নাম আসা ডিস্কো গ্রুপের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তরা জোনের এডিসি (অ্যাডমিন) আব্দুস সালাম।

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: পুলিশ হত্যাকারীদের ধরতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের পুরো ঠিকানা দিয়ে কেউ সহায়তা করছে না। তাই পুলিশকে প্রকৃত নাম ঠিকানা যোগাড় করে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
‘গতকাল রাতেও এমন একটি অভিযান হয়। কিন্তু, মামলায় তাদের নাম থাকার কথা জেনে কেউ কেউ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।’







