যাদের জন্য সবকিছু বাজি রেখে খেলে যান, সেই আর্জেন্টিনার জনগণ কিনা একের পর প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করে যাচ্ছে। সমালোচনায় করে চলছে বিদ্ধ। কতটা সহ্য করা যায়? তিনিও তো রক্ত মাংসেরই মানুষ। শেষ পর্যন্ত তাই মুখ না খুলে পারলেন না লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, এসব সমালোচনা তাকে পোড়ালেও স্বাভাবিকভাবেই নেন তিনি। সঙ্গে অলিম্পিকে জেতা সোনাকে নিজের কাছে অমূল্য রতন বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলির বিপক্ষ ম্যাচে মেসির একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই সহকারী রেফারিকে ‘অশ্রাব্য গালি’ দেওয়ার অভিযোগে বাছাইয়ের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জুটেছে তার। তাকে ছাড়া পরের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের হারে আর্জেন্টিনার। তাদের রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার রাস্তা এখন কাঁটায় পূর্ণ! সমর্থকরা নাকি এই হারের পেছনে দায় দেখছেন মেসির। মেসির অনুপস্থিতিই দলের হারের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে, অভিযোগ আর্জেন্টিনার জনগণের। কথাটা হয়তো সত্য। তিনি তো দলের প্রাণভোমড়াই। কিন্তু মেসির স্বদেশিরা সেই অভিযোগটা এমনভাবে করছেন, যেন হারের সব দোষ কেবল মেসিরই।
মেক্সিকোর এস্কোয়ার ম্যাগাজিনের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের কষ্টগুলো তুলে ধরেছেন মেসি। নিজ দেশের জনগণের সমালোচনা যে তাকে পোড়ায় সেটিও জানিয়েছেন। আবার বলেছেন এইসব সমালোচনা তার কাছে স্বাভাবিকই ঠেকে, ‘এই যে সমালোচনা হচ্ছে, এসব আমার কাছে একদমই স্বাভাবিক। কারণ আমি জানি এসব ঘটবেই। জনগণ আমাদের কাছে একটা হলেও শিরোপা চায়। আমরা যারা জাতীয় দলে খেলি, সবার লক্ষ্যও কিন্তু একটা শিরোপা।’
টানা তিন শিরোপার একদম দোরগোড়া থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন মেসিরা। জার্মানির কাছে বিশ্বকাপ শিরোপা খুইয়েছেন প্রথমে। পরে টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার চিলির কাছে। জাতীয় দলের হয়ে মেসির সাফল্য কেবল ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জয়। সেই সোনাই তার কাছে অমূল্য রতনসম, ‘এই একটা জয়কে আমি খুবই মূল্য দেই। কারণ এই টুর্নামেন্ট জীবনে একবারই খেলতে পারবেন আর সেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়দের সাথেও আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হয়।’
আজ যে মেসির মেসি হয়ে ওঠা যার হাত ধরে সেই গুরু পেপ গার্দিওলার প্রতিও সম্মান জানিয়েছেন ক্ষুদে জাদুকর, ‘আমি এবং আমার সতীর্থদের জন্য গর্বের বিষয় যে আমরা বার্সার সর্বজয়ী দলটার অংশ। গার্দিওলা এই দলটায় দারুণ সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। সবার সেরাটাও বের করে এনেছিলেন।’
মেসি এতো সমালোচনার ভিড়ে স্বস্তি খুঁজে পান নিজের পরিবারের কাছে। নিজের পরিবারকে তাই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করেন মেসি, ‘আমার জীবনে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার স্ত্রী, আমার সন্তান, আমার পরিবার। ওরা এমন এক সম্পদ যাদের আমি ভালোবাসি।’









