গত অর্থবছরের মতো এবারের বাজেটও নানা বৈশিষ্ট্যে ভরা। ৮ মেগা প্রকল্পের জন্য ‘কাঠামো রূপান্তরে বৃহৎ প্রকল্প: প্রবৃদ্ধি সঞ্চারে নতুন মাত্রা’ নামের ক্যাপিটাল বাজেট বরাদ্দ একবারেই নতুন চিন্তা। রাজস্ব আয় বাড়াতে বের করা হয়েছে নতুন অনেক খাত-উপখাত।
বিদেশে অর্থপাচার রোধ ছাড়াও ছাড়াও বিদেশী নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চালু হচ্ছে স্বতন্ত্র ইউনিট। আরো অনেক নতুন বিষয় আছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
বাজেট কাঠমোতে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ শতাংশ রাজস্ব আদায় অর্থমন্ত্রীকে উদ্বিগ্ন করলেও তার উচ্চাভিলাসীতাকে হ্রাস টানতে পারেনি।
বড় আকারের বাজেট কেবল দেননি কিভাবে রাজস্ব আদায়ের ব্যর্থতা কাটানো যায় সেই সন্ধানও দিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘ভবিষ্যতের বাজেট কাঠামোতে মোট আয়ের একটি দিক থাকবে এবং আরেকটি দিক হবে মোট ব্যয়। এই দু’টি ক্ষেত্রেই সরকার এবং অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়া হবে’।
জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির ঘর ৬, সাড়ে ৬ এর বৃত্ত থেকে বেরিয়ে যেতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে এখনই আর আগে বাড়তে চান না। সেভেন প্লাসের মাত্রায় আরো ২ বছর স্থিতিশীল থাকাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবশেষে আমরা ৬ হতে সাড়ে ৬ শতাংশ বলয় অতিক্রম করে চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবো বলে আশা করছি। এর ফলে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে।
উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা হিসেবে অনিশ্চিত স্থানীয় শাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেন অর্থমন্ত্রী। ঘনবসতির স্বল্প আয়তনের দেশে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে পৌঁছাতে তাই স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার গুণগত সংস্কার জরুরী। তাই জেলা সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব দেন তিনি।
এখন পর্যন্ত দশটি বাজেট পেশ করা অর্থমন্ত্রী বলেন,‘বিদেশে অর্থ পাচার এখন নিয়মিত আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার। সেই উদ্দেশ্যে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ট্রান্সফার প্রাইসিং , বিদেশী নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় এবং অর্থ পাচারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে’।
সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ইন্টারনেট সেইফটি সল্যুসন নামে মনিটরিং ও রেগুলেটরি ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও রয়েছে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন ও গ্রাহকের ফোন নম্বর সুরক্ষার লক্ষ্যে মোবাইল নাম্বার পোরটেবিলিটি লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা।
এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, ‘আমাদের দেশে কিন্তু শিল্প ব্যবস্থাপনায় মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের দক্ষ জনপদের দারুণ অভাব রয়েছে। এখানে বিদেশীরা কাজ করেন এবং প্রতিবছর প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যায়। এরকম অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইনকিউবেটর এবং এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় আছে’।
বাজেটে এবারই প্রথম পেনশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সরকারী আধা-সরকারী ও ব্যক্তি ও ব্যক্তি খাতে ডিপিএস ব্যবস্থায় পেনশন ব্যবস্থা প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।








