বরিশালের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ফেসবুকে তৈরি হওয়া গ্রুপ বদলে দিয়েছিল বরিশালের সরকারি সেবার প্রেক্ষাপট। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রজেক্টের পুরষ্কারও পেয়েছিল প্রকল্পটি।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই গ্রুপ একটি সঙ্কটময় পরিস্থিতে পড়েছে, সে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক সাইফ ইবনে রফিক।
তিনি লিখেছেন, বরিশালের ডিজিটাল অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিল জেলা প্রশাসন পরিচালিত ফেসবুকগ্রুপ Barisal – Problem & Prospect বরিশাল – সমস্যা ও সম্ভাবনা। অনেকটা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আদলে এই গ্রুপের বেসরকারি অ্যাডমিন ছিলেন দীপু হাফিজুর রহমান। জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান নিজেই লিড দিতেন গ্রুপটি। জেলার প্রান্তিক এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার এটা হয়ে উঠে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত কারিশমায় গ্রুপটি হয়ে ওঠে ডিজিটাল সেবার এক আদর্শ উদাহরণ।
জেল খাল উদ্ধার, নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ফুলসরণিতে গাছ লাগানোর মতো উৎসবমুখর বিভিন্ন ইভেন্ট সফল হয়েছে এই গ্রুপের মাধ্যমে। তবে সিটিজেন জার্নালিজমকে অ্যাকটিভিজমে রূপ দেয়া, কোনো ধরনের মানযাচাই ছাড়াই নির্বিচারে এটুআই প্রজেক্টের আওতায় সিটিজেন জার্নালিস্টদের কার্ড দেয়ায় মূলধারার সাংবাদিকদের সমালোচনার মুখে পড়ে জেলা প্রশাসন।
জার্নালিজম সংক্রান্ত কোনো ধরনের কর্মশালা ছাড়া সিটিজেন জার্নালিস্ট কার্ড বিতরণের যৌক্তিকতা নিয়ে সে সময় প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা শিক্ষক, সাংবাদিক নেতা ও দেশের সিনিয়র সাংবাদিকরা।
বরগুনার ইউএনও তারিক সালমন নাজেহালের ঘটনায় জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামানকে প্রত্যাহারের ঘটনায় বদলে যায় পরিস্থিতি।
বরিশালের স্থানীয় পত্রিকাগুলো বলছে, জেলা প্রশাসনের এই ফেসবুক গ্রুপটি অবৈধ। সিটিজেন জার্নালিস্ট শেখ রিয়াদ মো. নূর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ ‘বরিশাল জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত নয়, জেলা প্রশাসনেরও নয়, আমি ঢাকা থেকে ভালোভাবে খবর নিয়ে এসেছি, যদি কোথাও লেখা থাকে আমি পাল্টে দিব’- ডিসি বরিশাল (০২/০৮/২০১৭)’।

তাইলে এই গ্রুপকে দেয়া মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পুরষ্কার, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের প্রশংসা বা ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষের এই জনসম্পৃক্ততা- সব কিছুই কি প্রশ্নে মুখে পড়তে যাচ্ছে?







