এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে চুলের জন্য বাড়তি কিছু ঝামেলা। বৃষ্টির পানি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম ও ধুলাবালির কারণে এ সময়ে চুল হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ ও ফ্রিজি। অনেকের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে খুশকি, চুলকানি কিংবা চুল পড়ার সমস্যাও। তাই বর্ষাকালে চুলের যত্নে প্রয়োজন একটু বাড়তি সচেতনতা।
বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত চুল পরিষ্কার করুন
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া ভালো। এরপর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় ভেজা চুল নিয়ে থাকলে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা জমে অস্বস্তি ও বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভেজা চুল বেঁধে রাখা নয়
ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বল থাকে। তাই ভেজা অবস্থায় শক্ত করে চুল বাঁধা বা আঁচড়ানো ঠিক নয়। এতে চুল ভেঙে যাওয়া ও গোড়া থেকে চুল ওঠার প্রবণতা বাড়তে পারে।
নিয়মিত স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখুন
বর্ষায় ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বকে তেল-ময়লা জমতে পারে। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা জরুরি। অতিরিক্ত শ্যাম্পু না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করাই ভালো।
শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার
বর্ষায় চুল অনেক সময় রুক্ষ ও জটযুক্ত হয়ে যায়। শ্যাম্পুর পর চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে।
চুল শুকানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা
চুল শুকানোর সময় তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে পানি শুষে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে স্বাভাবিক বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত গরম বাতাস এড়িয়ে চলুন।
চিরুনি ব্যবহারে সতর্কতা
চুল পুরোপুরি ভেজা অবস্থায় আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন। চুল কিছুটা শুকিয়ে গেলে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে আঁচড়ানো ভালো। এতে চুলে টান কম পড়ে এবং ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
খাবারেও থাকুক নজর
চুলের সুস্থতার জন্য শুধু বাহ্যিক যত্ন যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও পানি রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।
বর্ষার দিনে চুলের যত্নের মূল কথা হলো চুল ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা, ভেজা চুল দীর্ঘ সময় না রাখা এবং অতিরিক্ত ঘর্ষণ ও হিট এড়িয়ে চলা। একটু সচেতন হলেই বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়াতেও চুল রাখা যায় সুন্দর, পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর।










