বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা ও দেশ বিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান করে তারা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘আমার নদী ফিরায়ে দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’; ‘আমার বন্দর ফিরায়ে দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’; ‘ক্যাম্পাসে লাশ কেন, শেখ হাসনিা জবাব দাও’; ‘আবরার শহীদ কেন, প্রশাসন জাবাব দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে দেশবিরোধী চক্রান্তের প্রথম শহীদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সাধারন শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, ‘দেশের জন্য কথা বলতে গিয়ে আমাদের ভাই আবরার শহীদ হয়েছে। তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। আজকে অবরারের জায়গায় আমি, আপনি কিংবা অন্য কেউ শহীদ হতে পারতাম। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এসময় তিনি দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল সহ আবরার হত্যার খুনিদের বিচার দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা আবরার হত্যার বিচার ও দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। জাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত বলেন, ‘আজকের আন্দোলন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আন্দোলন। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে কথা বলায় আবরারকে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের ভিনদেশী তাবেদারির এ রাজনীতি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। আবরার হত্যার প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়।








