রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে আটক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৫ সদস্যের মধ্যে আহাম্মদ আলী সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। প্রায় দশ বছর ধরে রূপনগরে বসবাস করা এই কর্মকর্তার পরিবার ছিল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন।
শনিবার রাতে এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার অভিযানের শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এই সংঘবদ্ধ জঙ্গি পরিবার ঘরের ভেতরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এটিইউ সদস্যরা স্থানীয়দের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় দরজা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করতে গেলে আলী আহাম্মদ ও তার পরিবার দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের উপর হামলা চালায়।
‘‘এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতরা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি করলে ঘটনাস্থলে আনসার আল ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জাকারিয়া (২৪) গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’’
মাহিদুজ্জামান বলেন, ‘রূপনগরের এই বাসায় নিয়মিত বৈঠক ও সন্দেহজনক লোকের আনাগোনা ছিল।এমনকি নিজেদের গোপনয়ীতা রক্ষায় তারা দূর থেকে বাজার সদাই করত। আটক আহাম্মদ আলী সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।’
‘‘আনসার আল ইসলামের এই ঘাঁটিতে যারা নিয়মিত আসা যাওয়া করত, তাদের বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান আছে। রূপনগরের এই জঙ্গি আস্তানা থেকে এটিইউ এখন পর্যন্ত বেশ কিছুসংখ্যক দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ, চূর্ণ এবং তরল রাসায়নিক পদার্থ, বোমা তৈরির হার্ডওয়্যার সরঞ্জামাদি, বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই-পুস্তিকা, মোবাইল, ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক উদ্ধার কর হয়।’’
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের পাশাপাশি নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত একই পরিবারের দুজন নারীসহ পাঁচজনকে আটক করে।
আটকরা হলেন – আহাম্মদ আলী (৫৭), তার স্ত্রী সালমা আহাম্মদ (৫০), পুত্র আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া (২৪), আবু সালেহ মোহাম্মদ কিবরিয়া (২২) ও কন্যা আসমা ফেরদৌসী রিফা (২৬)।
এটিইউ সদস্যরা বাসাটি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালাচ্ছে। আটক জঙ্গি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান।







