যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক সংক্রামক রোগ ‘জম্বি ডিয়ার ডিজিজ’। এটি হরিণের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শীঘ্রই মানুষকে সংক্রামিত করতে পারে এই রোগ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় হার্পারস ফেরি ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কের ২টি সাদা হরিণের শরীরে সম্প্রতি জম্বি ডিয়ার ডিজিজ বা ক্রনিক ওয়েটিং ডিজিজ এর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। হরিণ বা এর সমপ্রজাতির প্রাণীদের মাধ্যমে দ্রুত এই রোগটি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
রোগটির আসল নাম ‘ক্রনিক ওয়েটিং ডিজিজ’। এই রোগ সরাসরি পশুর মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতে আক্রমণ করে। এতে পশু ঝিমিয়ে পড়ে, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, চোখে ঝাপসা দেখতে থাকে, তীব্রভাবে ওজন কমে যায়, চারপাশে হোঁচট খেতে থাকে, সমস্ত শক্তি হারায় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এই কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘জম্বি ডিয়ার ডিজিজ’।
এই রোগটি ভুল আকৃতির প্রোটিনের কারণে হয়। প্রাণীদের শরীরে প্রোটিন সঠিক আকারে না থাকলে তাকে প্রিয়ন বলে। সংক্রমণের পরে প্রিয়নগুলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র জুড়ে ভ্রমণ করতে থাকে এবং মস্তিষ্কের টিস্যুসহ অন্য অঙ্গগুলোতে জমা হয়। ফলে এই রোগে আক্রান্ত প্রাণীরা অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা এই রোগটিকে একটি ‘ধীর-চলমান বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণের সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত হতে দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা সংক্রামিত প্রাণীর মাংস খাওয়া, সংক্রামিত প্রাণীর মস্তিষ্ক বা শারীরিক তরলের সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।








